![]()
রাজধানীতে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করতে হলে সাম্প্রতিক গণভোটের রায় নিঃশর্তভাবে মেনে নিতে হবে। তারা মনে করেন, গণভোটে বিপুল ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের অভিপ্রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে “গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ” শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্য এ আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, গণভোটকে কেবল আইনি বা সাংবিধানিক বিতর্ক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি জুলাই বিপ্লবেরই ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবকে যদি আমরা অস্বীকার করি, তাহলেই গণভোটকে অস্বীকার করা হবে।”
তিনি দাবি করেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জনগণের স্পষ্ট অভিপ্রায় তুলে ধরেছেন। তাই এই রায়কে বিনা তর্কে মেনে নেওয়াই গণতান্ত্রিক দায়িত্ব।
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, যারা গণভোট নিয়ে আইনি প্রশ্ন তুলছেন বা এটিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন, তাদের মধ্যে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণের ঘাটতি রয়েছে। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী এবং মানারাত ইউনিভার্সিটির উপাচার্য আব্দুর রব।
বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় তরুণদের আত্মত্যাগের মূল দাবি ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার। সেই লক্ষ্য পূরণে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। তারা সতর্ক করে বলেন, গণভোট নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হলে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সেমিনারে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতের দীর্ঘ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের এই গণরায় একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে কুতর্ক পরিহার করে জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং কোনো ধরনের স্বৈরাচার বা একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা সফল হতে দেবে না।