![]()
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি গুরুতর অসুস্থ এবং শাসনকার্যের দায়িত্ব পালনে অক্ষম আছেন। তাকে শিয়া ধর্মীয় কেন্দ্র কুমেতে চিকিৎসার অধীনে রাখা হয়েছে বলে এক নতুন মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে ভাগ করা এক কূটনৈতিক স্মারকে বলা হয়েছে, খামেনি ‘অচেতন’ এবং ‘গুরুতর অবস্থায়’ আছেন। এর ফলে চলমান যুদ্ধের মধ্যে দেশের নেতৃত্ব ব্যবস্থা অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং তিনি গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারছেন না। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
স্মারকে প্রথমবারের মতো খামেনির অবস্থানও জানানো হয়েছে। কুমে তেহরান থেকে প্রায় ৮৭ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এবং এটি শিয়া ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি শাসকগোষ্ঠীর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে অক্ষম, যা তার কার্যত স্থবির ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, যুদ্ধের প্রথম দিনে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছিল, এতে মুজতবা খামেনি আহত হন। এরপর থেকে তিনি প্রকাশ্যে আসেননি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার নামে দুটি বিবৃতি প্রচার করা হলেও কোনো যাচাইকৃত অডিও প্রকাশ হয়নি। যুদ্ধকক্ষের ভিডিও এবং তার শারীরিক অবস্থার উপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে বলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই দাবি করেছিলেন, খামেনি ‘মৃত বা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায়’ আছেন এবং ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
খামেনির শারীরিক অক্ষমতার কারণে দেশ পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর হাতে চলে গেছে। এতে তিনি কেবল প্রতীকী চরিত্রে পরিণত হয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
স্মারকে আলী খামেনির মৃত্যুর পরের প্রস্তুতিও তুলে ধরেছে। কুমেতে একটি বড় সমাধিসৌধ নির্মাণ চলছে, যেখানে মুজতবা খামেনি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের দাফন করা হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।
মুজতবা খামেনি ৫৬ বছর বয়সী, এবং তিনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ছেলে। আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলায় নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর মুজতবা খামেনিকে ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস ৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে ১ হাজার ৩৪০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য