![]()
গুগলের সদ্য প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কনটেন্ট অপসারণ অনুরোধ নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা–সমালোচনার মধ্যে সরকার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা ও বেআইনি মানহানিকর তথ্য ব্যতীত কোনো সংবাদ, মতামত বা রাজনৈতিক সমালোচনামূলক কনটেন্ট সরাতে কখনোই সরকার কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেনি।
“রাজনৈতিক সমালোচনা নয়—শুধু মিসইনফরমেশন ও বেআইনি চরিত্রহননই অপসারণের অনুরোধ”
সরকারের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করে বলা হয়:
“মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা ও চরিত্রহনন ছাড়া কোনো পত্রিকার নিউজ, অনলাইন আর্টিকেল, ভিডিও, পোস্ট বা রিলস সরাতে সরকার কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেনি।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মাধ্যমে শুধুমাত্র বেআইনি, বিভ্রান্তিকর ও সহিংসতা উসকে দেওয়া কনটেন্ট রিপোর্ট করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগের সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকারের রিকোয়েস্ট ‘অনেক কম’
গুগলের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে সরকারের দাবি
জানুয়ারি–জুন ২০২৫ সময়ে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অনুরোধ সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭৯।
সরকার বলছে—
এই সংখ্যা আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ কয়েক বছরের তুলনায় পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম।
উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে—
-
জুন–ডিসেম্বর ২০২২ সময়ে রিকোয়েস্ট ছিল ৮৬৭
-
জুন–ডিসেম্বর ২০২৩ সময়ে রিকোয়েস্ট ছিল ৫৯১
-
জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৪ ছিল মাত্র ১৫৩
এছাড়া রিপোর্টে দেখানো ৬৫% রিকোয়েস্টকে গুগল “Not enough information” হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা সরকারের ভাষায়—
“বিশেষ উদ্দেশ্যপূর্ণ ছিল না।”
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে মিসইনফরমেশনের ঢল
সরকার জানিয়েছে, বছরের শুরুতে—
-
প্রতিবেশী দেশের মিডিয়া থেকে
-
নিষিদ্ধ সংগঠনের সাইবার গ্রুপ থেকে
-
রাজনৈতিক সংঘাত–কেন্দ্রিক কয়েকটি পেজ থেকে
বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইন চালানো হয়।
বিশেষ করে—
-
জুলাই গণঅভ্যুত্থান
-
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচার কার্যক্রম
-
নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অনলাইন তৎপরতা
-
সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা
-
অনলাইন জুয়া ও গ্যাম্বলিং সাইট
এসব কারণে বেশকিছু রিপোর্ট পাঠানো হয় বলে সরকারের ব্যাখ্যা।
“বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বোচ্চ ইন্টারনেট স্বাধীনতার অগ্রগতি অর্জন করেছে”—সরকার
সরকার জানায়, ফ্রিডম হাউসের ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৫’ রিপোর্টে বাংলাদেশ বিশ্বে সর্বোচ্চ ইন্টারনেট স্বাধীনতার অগ্রগতি অর্জন করেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী—
-
গত বছরের স্কোর: ৪০
-
২০২৫ সালে স্কোর: ৪৫
-
সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উন্নতি
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, দমনমূলক সরকার অপসারণ এবং ইন্টারনেট ব্লক প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলেই এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের ক্ষোভ: “ব্যাখ্যা না নিয়েই সংবাদ প্রকাশ হতাশাজনক”
সরকার বলছে—
“রিপোর্ট প্রকাশের আগে কোনো গণমাধ্যম সরকারের ব্যাখ্যা নেয়নি—এটি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অনুপস্থিতি।”
এ ধরনের খণ্ডিত সংবাদ সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলেও ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।
জনগণের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দায়িত্ব সরকারের—ব্যাখ্যা
অনলাইনে—
-
সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ
-
গুজব
-
সহিংসতার আহ্বান
-
বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট
এসব দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি—এ কারণেই নিয়মিত কিছু কনটেন্ট রিপোর্ট করতে হয় বলে সরকার জানিয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য