![]()
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে আগের কোনো বিতর্ক বা কলঙ্ক থেকে মুক্ত রাখতে হবে—এমন আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, “কলঙ্কমুক্ত নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করেছি। এখন দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও জনগণের হাতে। আপনারাই নিশ্চিত করবেন, এই নির্বাচনটি যেন সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক হয় এবং অতীতের গ্লানিগুলো মুছে দিতে পারে।”
সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাইস্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতি আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি শাহআলম বাবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি প্রফেসর সিকান্দার খান, একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম, কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোরশেদুজ্জামান।
উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, “ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি যেনতেন নির্বাচন নয়—একটি যুগান্তকারী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। এখানে প্রত্যেকের অংশগ্রহণ জরুরি। যিনি প্রার্থী হতে চান, তিনি যেন প্রার্থী হতে পারেন। যিনি ভোট দিতে চান, তিনি যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারেন। মানুষের ভোট যেন সঠিকভাবে গণনা হয় এবং প্রকৃত বিজয়ীই যেন বিজয়ী ঘোষিত হন—এটাই আমাদের জাতির প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে জনগণ যাকেই বেছে নেবেন, যে দল বা ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেবেন—আমরা জাতি হিসেবে তার পাশে দাঁড়াবো। ভবিষ্যতে যিনি প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী হবেন, আমরা দেশের স্বার্থে তাদের সঙ্গে থাকবো।”
বিদ্যালয়ের ১৯৬৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাওজুল কবির শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, “শিক্ষার্থীদের বড় অর্জন কী—তা সঠিকভাবে বোঝাতে হবে। লক্ষ্য উঁচুতে স্থির করতে হবে। হাজার জনের মধ্যে শতজন চেষ্টা করবে, আর সেখান থেকে একজন সফল হবে। তাই লক্ষ্য নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “উপদেষ্টা হওয়া বা মন্ত্রী হওয়া-ই বড় অর্জন নয়। বড় ব্যবসায়ী হওয়াও চূড়ান্ত অর্জন নয়। আমি মনে করি, ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের মতো একজন মহান বংশীবাদক হওয়াটাই বড় অর্জন। কিংবা ডা. ইমরান বিন ইউনুসের মতো আন্তর্জাতিকমানের কিডনি বিশেষজ্ঞ হওয়াটাই প্রকৃত অর্জন। আমরা যেন অর্জনের সংজ্ঞা ঠিকভাবে বুঝি।”
সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “সংবর্ধনার উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতের আরও বড় লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহ দেওয়া। আমরা আশা করি তোমরা সামনে আরও বড় অর্জন করতে সক্ষম হবে।”
পাঠকের মন্তব্য