![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর এবার ভোটারদের ওপর অবৈধ নজরদারির অভিযোগ সামনে এনে ফলাফল চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ। আরব রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে নজরদারি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। অথচ নির্বাচনের আগেই দেশটির উচ্চ আদালত এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিলেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) টাইমস অব ইসরায়েলকে বিষয়টি জানিয়েছেন লিকুদের আইনজীবী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে থাকা দলের পর্যবেক্ষকেরা আরব দলগুলোর কর্মীদের বিরুদ্ধে অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের অভিযোগ তুলেছেন।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু ও তাঁর বিদায়ী জোটের নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, আরব রাজনৈতিক দলগুলো অনিয়মের মাধ্যমে জয় পেয়েছে। নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড অংশগ্রহণের কারণে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় নেতানিয়াহুর জোট। এরপর থেকে ঘুষ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করে আসছে দলটি।
লিকুদের আইনজীবী ইলান বোমবাখ টাইমস অব ইসরায়েলকে জানান, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা দলের পর্যবেক্ষকেরা স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের ঘটনা শনাক্ত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে প্রায় ৭০০টি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। বোমবাখের দাবি, প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে শত শত, এমনকি হাজার হাজার ভোটের বিষয় জড়িত।
তাঁর অভিযোগ, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর ফলে আরব দলগুলো নির্বাচনে অন্যায্য সুবিধা পেয়েছে। তবে পুরো নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের আবেদন করা হবে, নাকি নির্দিষ্ট কিছু অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জেরুজালেম জেলা আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। তবে আবেদনের শেষ সময় ১৭ নভেম্বর হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগে আপিল করা কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষক পাঠানো সংগঠন ‘সিভিলিয়ান ইলেকশন গার্ড’ ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে অ্যাপ ব্যবহারের ৩৭৪টি সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করেছে।
সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে লিকুদের কর্মী ও ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। মোট ঘটনার ৩২ শতাংশের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এরপর রয়েছে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ১০ শতাংশ, শাস ৬ শতাংশ, রা’আম ২ শতাংশ এবং জয়েন্ট লিস্ট ১ শতাংশ।
নির্বাচনের ১০ দিন আগে ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন লিকুদের কয়েকজন মন্ত্রী। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে লিকুদ ও অতি-ধর্মীয় দলগুলো এ ধরনের তথ্য ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে। আদালতে দলটির আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে নির্বাচনের দিন তাঁদের সাংগঠনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
বোমবাখ আরও জানান, নির্বাচনি জালিয়াতির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তাধীন দুটি ঘটনাও সম্ভাব্য আপিলের আওতায় আসতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির ওপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। শুক্রবার চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে চলমান দুটি তদন্তই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
প্রথম অভিযোগটি রা’আমের পক্ষে ভোট দিতে ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে। নির্বাচনের দিন সকালে এ ঘটনায় তিন বেদুইন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে নতুন কোনো প্রমাণ পাওয়া না গেলে মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এরই মধ্যে আটক সন্দেহভাজনদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগটি জয়েন্ট লিস্টের পক্ষে বিদেশি অর্থায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ ঘটনায় কাতারের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছিল। তবে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত পুলিশের কাছে যে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, তাতে কাতারের কোনো উল্লেখ নেই। বরং সংশ্লিষ্ট অর্থ পশ্চিম তীর থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এসব তদন্তের প্রসঙ্গ তুলে লিকুদ ও বিদায়ী জোটের অন্য দলগুলো বুধবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের কাছে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল ঘোষণা ও হস্তান্তর পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান নোয়াম সোলবার্গ জানান, তদন্তাধীন অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলেও তা নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো গুরুতর নয়। একই সঙ্গে আরব ভোটারদের সামগ্রিকভাবে অভিযুক্ত করার প্রবণতার সমালোচনা করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রেসিডেন্ট হারজোগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন তিনি।
এ প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল ইয়াশারের নেতা গাদি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন ৬৭ জন সংসদ সদস্য। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেছেন ৪৬ জন। সাতটি আসন পাওয়া ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম কোনো পক্ষকেই সমর্থন দেয়নি। এর মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহুর প্রতি দলটির দীর্ঘদিনের সমর্থনে ছেদ পড়েছে।
পাঠকের মন্তব্য