![]()
ইবি রিপোর্ট
বেশ কয়েক দিনের উত্তেজনা পেছনে ফেলে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে আবার সচল হয়েছে কলকারখানা। ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মালিক ও শ্রমিক দুই পক্ষই রাজি হওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে রয়েছে ২৫ প্লাটুন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানিয়েছেন, কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কোনাবাড়ী, শফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, বাসন সড়ক, টঙ্গী, সালনা, ভবানীপুর ও বাংলাবাজারসহ সব এলাকায় শ্রমিকরা শৃঙ্খলার সঙ্গে কারখানায় ঢুকেছেন।
যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এবং শ্রমিকদের নিরাপদ চলাচলের জন্য প্রশাসন টানা নবম দিনের মতো বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা রেখেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) শিল্পাঞ্চলে দায়িত্বরত বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: শাহরিয়ার নাজির।
তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের মতো আজও ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ২৫ প্লাটুন বিশেষ বাহিনী দায়িত্বে রয়েছে। এর মধ্যে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন আনসার ও ৮ প্লাটুন এসআরবি। সঙ্গে কাজ করছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
শাহরিয়ার নাজির আরও জানান, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্ক আছেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি বা মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটতে দেওয়া হবে না বলে প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
গত কয়েক দিন গাজীপুরে মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের ব্যাপক আন্দোলন চলে। এ সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষও বাধে।
অস্থিরতার মধ্যে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও একটি কারখানার গুদামে আগুন দেওয়া হয়। শ্রমিক ও পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন কারখানা সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখে এবং ছুটি ঘোষণা করে।
বাংলাবাজার এলাকায় মুঠোফোনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন পোশাক শ্রমিক তৌফিক হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
সংকট মেটাতে সরকার ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। শিল্প খাতের বাস্তব অবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে বোর্ড বেতন বাড়ানোর নির্দিষ্ট সুপারিশ দেয়। মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাতে সম্মতি জানান।
সমঝোতার রূপরেখা অনুযায়ী, সরকার ও বোর্ডের সিদ্ধান্তে নতুন মজুরি কাঠামো আগামী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা সমন্বিত ও বাড়তি বেতন পাবেন। সরকারের আশ্বাসে তাঁরা আন্দোলন ছেড়ে কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।