![]()
ইবি রিপোর্ট
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভা বর্জন করেছে জেলা বিএনপি। অনুষ্ঠানের ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না রাখা এবং উপস্থাপনার দায়িত্বে সাংস্কৃতিক লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে রাখার অভিযোগে আপত্তি জানান দলটির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানস্থলে কিছু সময় উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
গতকাল শনিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সংলগ্ন ডিসি সাহিত্য মঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানের মঞ্চে গিয়ে জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকার বিষয়ে প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের উপস্থাপকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু। তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানের ব্যানারে তাঁর ছবি রাখা হয়নি। বিষয়টিকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা নিয়েও আপত্তি জানান বিএনপি নেতারা। শফিকুল ইসলাম পিটুর অভিযোগ, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মতো আয়োজনে সাংস্কৃতিক লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজনকে উপস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ ধরনের অনুষ্ঠানের মঞ্চে রাখার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলেও তাঁরা মনে করেন।
জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করে শফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যক্তিদের উপস্থিতি থাকলে তাঁরা অনুষ্ঠান হতে দেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ ছাড়া একই সময়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে আরও কিছু অসংগতির অভিযোগ তুলে নেতারা সেটি বর্জনের ঘোষণা দেন।
এদিকে, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তিনি বলেন, ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি থাকা উচিত ছিল। এ জন্য তাঁরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
জেলা প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ব্যানারে ছবি ব্যবহার না করার বিষয়ে সব সময় নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে কারণে তাঁরা ব্যানারে সব ধরনের ছবি বাদ রেখেছিলেন। তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত ছিল বলেও স্বীকার করেন লুৎফুন নাহার। যথাযথভাবে খেয়াল না রাখার জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক।
ঘটনাটি ঘিরে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভা বর্জন, বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিবাদ এবং জেলা প্রশাসকের দুঃখ প্রকাশের বিষয়গুলো সামনে এসেছে।
পাঠকের মন্তব্য