![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হ্যালোইন উদ্যাপনের আনন্দের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বন্দুক হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডেলাওয়্যার পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নৈশক্লাব, পোশাকের দোকান, স্টেডিয়াম এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে সংঘটিত এসব হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯৪ জন। পুলিশ জানিয়েছে, হ্যালোইন উৎসব ঘিরে দেশজুড়ে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অংশ হিসেবেই এসব ঘটনা ঘটেছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে টেক্সাসের ডালাস শহরের বিনোদনকেন্দ্র ‘ডিপ এলাম’ এলাকায়। ১ নভেম্বর ভোরে সেখানে পৃথক তিনটি বন্দুক হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গোলাগুলির শব্দ শুনে আতঙ্কিত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা তিনটির মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার সংবাদ সম্মেলনে ডালাসের পুলিশপ্রধান ড্যানিয়েল কোমো বলেন, ‘আমরা জানতাম, শনিবার রাত। আমরা জানতাম, হ্যালোইন। তাই পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।’ তিনি এ ধরনের রক্তপাতকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের ধারাবাহিক ঘটনায় এলাকাটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর জেরে চলতি বছর সেখানে অন্তত সাতটি পুরোনো বার ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ হামলার পর পুলিশ পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে। রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা আবর্জনার মধ্যে এলাকাটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে।
ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে পৃথক দুটি গোলাগুলির ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। রোববার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪০ মিনিটে একটি হ্যালোইন পার্টিতে প্রবেশের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে প্রাণ হারায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী এবং আহত অন্য দুজন বন্দুকধারীর মূল লক্ষ্য ছিলেন না।
এর কয়েক ঘণ্টা পর ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে শহরের অন্য একটি বাড়িতে আয়োজিত পার্টিতে আবারও গোলাগুলি হয়। শতাধিক অতিথি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এতে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত এবং ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও অন্য একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশে হ্যালোইন সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে দুই ডজনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আলাবামার বার্মিংহামে লেজিয়ন ফিল্ড স্টেডিয়ামের বাইরে হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হন। আলাবামা এঅ্যান্ডএম ও আলাবামা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রিয় ‘ম্যাজিক সিটি ক্ল্যাসিক’ ফুটবল ম্যাচ ঘিরে ওই স্টেডিয়ামে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল।
এ ঘটনার প্রায় ৬০০ মাইল উত্তরে ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের কাছে গোলাগুলিতে আটজন আহত হন। ব্লুমিংটন পুলিশ বিভাগের তথ্যমতে, ঘটনাস্থলেই ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রায় একই সময়ে সেখান থেকে ২০০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ব্লুমিংটনে বড় জমায়েত লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। তখন ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটিতে হ্যালোইনের পাশাপাশি ‘হোমকামিং’ উৎসব চলছিল।
ব্লুমিংটন পুলিশ জানায়, ‘শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় একাধিক ব্যক্তিকে পাওয়া গেছে, যাদের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ এ ঘটনায় আহত সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পালানোর সময় একজনকে আটক করা হলেও তিনি গুলি চালিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পোশাকের দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে চার সন্তানের এক জননী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ছয়জন। তাঁদের মধ্যে দুই কিশোরের অবস্থা সংকটজনক। মিসিসিপির জ্যাকসনের একটি নৈশক্লাবে গোলাগুলিতে দুজন নিহত এবং চারজন আহত হন।
মিশিগানের ডেট্রয়েটে হ্যালোইনের পোশাক পরা পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু নিজের ঘরে খেলার সময় বুকে গুলিবিদ্ধ হয়। এর আগে সে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ক্যান্ডি সংগ্রহ করেছিল। ডেট্রয়েট পুলিশের উপপ্রধান আর্নল্ড উইলিয়ামস জানান, আহত অবস্থায় শিশুটি মাকে বলেছিল, ‘আমার মনে হয়, আমার গুলি লেগেছে।’ বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল।
এদিকে ওকলাহোমা সিটির একটি ট্রেলার পার্কে হ্যালোইন পার্টির গোলযোগের সময় একজনের পায়ে একাধিক গুলি লাগে। তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে দুটি গাড়ির সংঘর্ষে আরও দুজন নিহত হলেও তাঁদের মৃত্যুর কারণ এখনো পরিষ্কার নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যালোইন উৎসবের সময় এ ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি বেশি থাকলেও তা পুরোপুরি ঠেকানো কঠিন। বাইডেন প্রশাসনের ব্যুরো অব জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিকসের সাবেক পরিচালক ও মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞানী অ্যালেক্সিস পিকেরো বলেন, ‘পুলিশ প্রতিটি বারের ভেতরে থাকতে পারে না। তারা প্রতিটি গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাতেও থাকতে পারে না।’
পাঠকের মন্তব্য