![]()
ইবি রিপোর্ট
ডি-৮ জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বিদ্যমান বাধা দূর করার পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য চুক্তি দুটির রূপরেখা চূড়ান্ত করা, পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা বাড়ানো এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে ডি-৮ সচিবালয়কে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে গতকাল কমসেকের ৪২তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের সাইডলাইনে ডি-৮ মহাসচিব সোহাইল মাহমুদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের এ অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথে থাকা প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করেন দুই পক্ষ।
এ ক্ষেত্রে শুল্ক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দেয় বাংলাদেশ। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ডি-৮ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। এজন্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির (পিটিএ) রূপরেখা দ্রুত চূড়ান্ত করার পাশাপাশি সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
চুক্তিগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে ডি-৮ সচিবালয়কে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ডি-৮ জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে জোটের কাঠামো ও কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা দরকার।
ডি-৮কে আরও কার্যকর ও অর্থবহ করতে পুনর্গঠনের পাশাপাশি ফলাফলভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রস্তাব ও আগ্রহের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন ডি-৮ মহাসচিব সোহাইল মাহমুদ। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশের দেওয়া প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষের পাশাপাশি ডি-৮ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাধা কমানো, শুল্ক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
পাঠকের মন্তব্য