![]()
ইবি রিপোর্ট
দিনাজপুরের হিলির বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়েছে। আগে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন কিনতে হচ্ছে ৪৫ টাকায়। বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকদের বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহে বাধা এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিক্রেতারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। তবে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
হিলির বাজারে গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে একই পরিমাণ পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৪৫ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি খরচের মুখে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
স্থানীয় পেঁয়াজ বিক্রেতা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতে কৃষকরা বাজারে পেঁয়াজ ছাড়তে পারছেন না। এতে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই মোকামেই পেঁয়াজের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামের ওপর। তবে আবহাওয়া ভালো হলে আর কৃষকরা বাজারে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়তে শুরু করলে সরবরাহ যেমন বাড়বে, তেমনি দামও কমে আসবে।’
বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে কৃষকরা বাজারে পেঁয়াজ আনতে না পারায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বেড়েছে। এসব কারণে পাইকারি পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পেঁয়াজের দামে প্রভাব পড়ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে এলে কৃষকেরা বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ বাড়াতে পারবেন বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাতে দামও কমে আসতে পারে।
এদিকে পেঁয়াজের দাম যেন কৃত্রিমভাবে বাড়ানো না হয়, তা নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। দিনাজপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। বাজারগুলোয় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিক্রেতারা কোন পণ্য কী দামে কিনেছেন বা বিক্রি করছেন তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে দাম বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে জরিমানাও করা হচ্ছে।’
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং বাজার তদারকি—দুই বিষয়ই প্রয়োজন। হিলির বাজারে বর্তমানে কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ায় নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের ব্যয় বেড়েছে। তবে আবহাওয়া ভালো হলে কৃষকেরা বাজারে পেঁয়াজ আনা শুরু করবেন এবং সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন বিক্রেতারা।
পাঠকের মন্তব্য