![]()
ইবি রিপোর্ট
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংস্থাটির সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর আগামী দুই দিনও এ বিষয়ে আলোচনা চলবে। নতুন ঋণ পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুটের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অস্বস্তি বোধ করার কারণ নেই।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আশা করছি, আইএমএফ আমাদের সঙ্গে একমত হবে। একমত না হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাইছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের অবস্থানের সঙ্গে মিল রয়েছে। দু-একটি বিষয়ে ভিন্নতা আছে। সেগুলো আমরা ধারাবাহিকতা অনুযায়ী বিবেচনা করছি।’
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের চাওয়া এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামঞ্জস্য রয়েছে। কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সেগুলো নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করছে সরকার।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থনীতির জন্য একটি ‘কুশন’ বা সুরক্ষা বলয় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংকের একটি দল বাংলাদেশ সফর করবে। সফরকালে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এজন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পার্টনারশীপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সংস্থাটির একটি টিম বাংলাদেশ সফরে যাবে এবং সেখানেও আলোচনা হবে। আমি মনে করি আমরা সঠিক পথেই আছি।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি সরকারের আলোচনায় রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রস্তাবিত অংশীদারত্ব চুক্তির মাধ্যমে শুধু প্রকল্পের অর্থায়ন নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের অস্থিরতা মোকাবিলার জন্যও সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই পার্টনারশীপ এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে কেবল প্রজেক্ট ফিনান্স নয়, গ্লোবাল এনার্জি সেক্টর আনরেস্টেও কুশন দরকার। এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। বিশ্বব্যাংক আগেও সাপোর্ট করেছে, আগামী দিনেও সাপোর্ট করবে।’
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে আইএমএফের নতুন ঋণচুক্তি এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রস্তাবিত অংশীদারত্ব কাঠামো—দুই ক্ষেত্রেই আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে। একদিকে নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে সমঝোতার প্রত্যাশা করছে সরকার, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারের প্রত্যাশা, আইএমএফের সঙ্গে চলমান আলোচনায় মতপার্থক্য থাকা বিষয়গুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে পরবর্তী আলোচনাও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
পাঠকের মন্তব্য