![]()
ইবি রিপোর্ট
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, ব্যাংকঋণ ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতায় চাপে রয়েছে দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্প। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত পুনর্গঠন করে শিল্পের প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বস্ত্র খাতে বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব)। অনুষ্ঠানে আইটিইটির নবনির্বাচিত কমিটিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিগত সরকারের আমলে দেশের ব্যাংকিং খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেই ব্যাংক ও আর্থিক খাত পুনর্গঠন করে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁর মতে, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের সংকট সমাধানে সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্প দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এই খাতের উদ্যোক্তাদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংকঋণ পাওয়ার সীমাবদ্ধতা, এলসি খোলার জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত কমপ্লায়েন্সের শর্ত পূরণের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তাঁর মতে, উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত বস্ত্র ও পোশাকশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা বাংলাদেশের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে আগের মতো আগ্রহী না-ও থাকতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের শর্ত পূরণে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার।
রিজভী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে শ্রমিকদের নিরাপদ ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশগত মান বজায় রাখতে হবে। এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানার বিষয়ে তিনি বলেন, বন্ধ কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার পাশাপাশি আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে এসব প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের ভাতা দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা চলছে। এসব উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রকৌশলীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ব্যক্তিগত চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশকে আধুনিক ও উৎপাদনশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের সংকট নিরসনে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, শিল্পের অর্থায়ন, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার বিষয়গুলোকে একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।