![]()
ইবি রিপোর্ট
সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আলোচনায় নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে প্রধান উপদেষ্টা বাছাইয়ের শেষ ধাপ এবং উপদেষ্টা পরিষদের কাঠামো নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার সুযোগ না রাখার বিষয়ে কমিটির অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে।
বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান না করার বিষয়ে কমিটির সুস্পষ্ট মতামত রয়েছে। ২০০৬-০৭ সালের অভিজ্ঞতার পর নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে যে রাজনৈতিক সংকট ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা বিবেচনায় নিয়ে এই পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে।
কমিটি সূত্র জানায়, প্রধান উপদেষ্টা বাছাইয়ের যে কাঠামোটি আলোচনায় রয়েছে, তা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর প্রস্তাবের ভিত্তিতে তৈরি। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিন আগে স্পিকারের তত্ত্বাবধানে পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি থাকবেন।
প্রথম ধাপে ঐকমত্য না হলে ‘৫+৫+২’ পদ্ধতিতে সরকারি দল বা জোট পাঁচজন, প্রধান বিরোধী দল পাঁচজন এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল দুজনের নাম প্রস্তাব করবে। এরপর আলোচনার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।
এ পর্যায়েও সমাধান না হলে আপিল বিভাগের একজন ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতিকে যুক্ত করে সাত সদস্যের বাছাই কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। ওই কমিটিতে গোপন ব্যালটে ‘র্যাংকড চয়েস’ ভোটের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা চূড়ান্ত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তাকে সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেবেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ ১৫ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করতে পারবেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন। দৈব-দুর্বিপাকের কারণে নির্বাচন সম্ভব না হলে মেয়াদ আরও সর্বোচ্চ ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। নতুন সংসদ গঠন ও প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার সঙ্গে সরকারের মেয়াদ শেষ হবে।
এদিকে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে কমিটি। এর ফলে সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী সংক্রান্ত বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বাধ্যবাধকতা থাকবে।
গত ৪ আগস্ট প্রথম বৈঠকের মাধ্যমে কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়। জামায়াত-এনসিপি জোট পাঁচ সদস্যের নাম না দেওয়ায় ১২ সদস্যের কমিটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ছয়টি বৈঠকে রাজনীতিক, সাংবাদিক, আইনজীবী, শ্রমজীবী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের মতামত নেওয়া হয়েছে।
কমিটি প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠক করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন সংসদে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত বিল পাসের লক্ষ্যও রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য