
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা রমজান ও ঈদুল ফিতরের পর ১৪ মার্চ থেকে শুরু হবে। অন্যদিকে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পূর্বঘোষিত সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান।
রমজানের পর এসএসসি পরীক্ষা
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রমজানের পর এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে রমজান, ঈদুল ফিতর, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সময় এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এর আগে জানুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে রমজানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসকে এসএসসি পরীক্ষার উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এবার রমজানের কারণে ওই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রমজানের আগে পরীক্ষা আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও পাঠ্যবিষয় পুনরালোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় পেত না। তাই সব দিক বিবেচনা করেই রমজানের পর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১৪ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তত্ত্বীয় পরীক্ষা
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৪ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী ২২ এপ্রিলের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, প্রায় দেড় বছর আগেই পরীক্ষার সময় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে আপাতত এসএসসি পরীক্ষা আরও পেছানোর কোনো কারণ নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
নির্ধারিত সময়েই শুরু এইচএসসি
অন্যদিকে, ২০২৭ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৬ জুন থেকে এই পরীক্ষা শুরু হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ দেখছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে শিক্ষার্থীদের।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষার প্রস্তুতি ও একাডেমিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব সরকারের
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, এই খাতের বিভিন্ন দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কাজ করছে সরকার।
কারিগরি শিক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করার লক্ষ্যেই সরকার শিক্ষা খাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশটির সফল অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই চীনের আমন্ত্রণে সাম্প্রতিক সফর করা হয়েছে।
তিনি জানান, কারিগরি শিক্ষকদের আরও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করার লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
দেশে শিক্ষার তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন বা চীনা ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক চীনা কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল সরবরাহের জন্য শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও কারিগরি দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
ফলে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি শিক্ষা খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করা এবং কারিগরি শিক্ষার পরিসর ও মান বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
পাঠকের মন্তব্য