
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
রংপুরে সাবেক শিক্ষক ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, রংপুরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যথায় ঘটনাটি নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতো।
তিনি বলেন, শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ রয়েছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে—এসব বিষয়ও খুঁজে বের করতে হবে। এ জন্য ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান করে তা নির্মূল করার আহ্বান জানান তিনি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ
দেশে আইনের শাসন আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির এই নেতা। তার মতে, অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধী যে-ই হোক, তাকে দ্রুত ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে হবে।
রিজভী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের সব ধরনের অপরাধী আইনের আওতায় আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে জীবনযাপন করতে পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের আহ্বান
দেশে মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিজভী। তিনি মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
রিজভী বলেন, দেশের কোথাও কোনো ধরনের মাদক থাকা উচিত নয়। মাদক ব্যবসা ও এর সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে মাদক কারবারীরা যেন কোনো ধরনের ছাড় না পায়—এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকের বিস্তার সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ও অস্থিরতা তৈরি করে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ অনুসরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা হলে মানবজীবনে সফলতা অর্জন সম্ভব। ন্যায়, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, মহানবী (সা.) মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার, শান্তি ও মানবিক আচরণের যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, তা ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এসব মূল্যবোধ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বাড়বে।
সরকারের জবাবদিহিতার দাবি
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
তিনি বলেন, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা গণমাধ্যম, জনগণ এবং তৃণমূলের মানুষের সামনে জবাবদিহি করছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ানোর মাধ্যমে জনগণের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রংপুরের হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন রিজভী। তার মতে, আইনের শাসন শক্তিশালী করা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার মাধ্যমেই দেশে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
পাঠকের মন্তব্য