
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে মুখোশধারী অনেকেই এখনো ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের জন্য ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে দেশে আর কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান বলেন, যে সরকার হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু ও অন্ধ করেছে, সেই ফ্যাসিস্ট শক্তিকে যারা আবার ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে ভবিষ্যতে আবার ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিজম যেন আর ফিরে না আসে’—এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এজন্য গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ রেখে যাওয়ার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের। রাষ্ট্র পরিচালনা ও দেশ গড়ার কাজে ভুল হতে পারে। তবে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তা সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ওপর গুরুত্ব
দেশকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রকৃত স্বাদ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের কোনো পর্যায়েই যেন স্বেচ্ছাচারিতা বা কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা জায়গা করে নিতে না পারে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে ন্যায়, মানবিকতা ও কল্যাণের পথে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের জন্য একটি সুন্দর ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু অতীতের ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ভবিষ্যতে যাতে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অংশ হতে পারে না।
বিরোধিতার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার আহ্বান
রাজনীতিতে শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। দেশের স্বার্থকে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কল্যাণ ও জনগণের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।
আসাদুজ্জামান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন ক্ষমতার অপব্যবহার, নিপীড়ন কিংবা স্বেচ্ছাচারিতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
পাঠকের মন্তব্য