
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী, গীতিকার, অভিনেত্রী, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী ডলি পার্টন মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে সংগীত, অভিনয় ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
পরিবারের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ক্যানসারের সঙ্গে অল্প সময়ের লড়াইয়ের পর স্বজনদের উপস্থিতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডলি পার্টন। তার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে সংগীতাঙ্গন ও ভক্তদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ডলি পার্টনের মৃত্যু শুধু একজন জনপ্রিয় শিল্পীর বিদায় নয়, বরং মার্কিন কান্ট্রি সংগীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও সমাপ্তি। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের অনন্য কণ্ঠ, গীতিকার হিসেবে অসাধারণ দক্ষতা এবং অভিনয় প্রতিভা দিয়ে তিনি বিনোদনজগতে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
ছয় বছর বয়সেই গান লেখা শুরু
শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল ডলি পার্টনের। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি নিজের প্রথম গান লেখেন। ভুট্টার শিষ দিয়ে তৈরি একটি পুতুলকে ঘিরে লেখা সেই গানই হয়ে ওঠে তার দীর্ঘ সংগীতযাত্রার শুরুর দিকের একটি নিদর্শন।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ধীরে ধীরে গান লেখা ও গাওয়ার পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন ডলি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি মার্কিন সংগীতের অন্যতম পরিচিত ও সফল তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
১১টি গ্র্যামি ও কোটি অ্যালবাম বিক্রি
ডলি পার্টনের সংগীতজীবনের সাফল্যের অন্যতম বড় স্বীকৃতি ১১টি গ্র্যামি পুরস্কার। এর মধ্যে রয়েছে আজীবন সম্মাননা পুরস্কারও। তার গাওয়া ও লেখা একাধিক গান বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
‘Jolene’, ‘I Will Always Love You’ এবং ‘Coat of Many Colors’-এর মতো গান তাকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে। তার অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে ১০ কোটিরও বেশি।
বিশেষ করে ‘I Will Always Love You’ গানটি পরবর্তীতে অন্য শিল্পীর কণ্ঠেও বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। তবে গানটির স্রষ্টা হিসেবে ডলি পার্টনের অবদান সংগীতের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশ্বজুড়ে কান্ট্রি সংগীতকে জনপ্রিয় করেছেন
ডলি পার্টনের সাফল্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার গান দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যায়। তার কণ্ঠ ও গীতিকবিতার মাধ্যমে কান্ট্রি ও লোকসংগীতের আবেদন আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছেও আরও বিস্তৃত হয়।
শিল্পীজীবনের পাশাপাশি উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী হিসেবেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছিলেন ডলি। মানুষের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে তার বিভিন্ন উদ্যোগ তাকে সংগীতের বাইরেও বিশেষ মর্যাদা এনে দেয়।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধারে গায়িকা, গীতিকার, অভিনেত্রী, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী হিসেবে নিজের বহুমাত্রিক প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। ফলে তার বিদায় শুধু কান্ট্রি সংগীতের ভক্তদের জন্য নয়, বিশ্ব বিনোদনাঙ্গনের জন্যও এক বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।
ডলি পার্টনের ছয় দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ার, অসংখ্য জনপ্রিয় গান এবং মানবিক কর্মকাণ্ড তাকে সংগীতের ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে। তার সৃষ্টিশীলতা ও সংগীতের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পী ও শ্রোতাদের কাছেও দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পাঠকের মন্তব্য