![]()
প্রবা প্রতিবেদক
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভা ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংগঠনটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত ১২টি অভিযোগের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার জারি করা এক নির্দেশনায় স্থগিতাদেশের বিষয়টি জানানো হয়। ফলে আগামী শনিবার নির্ধারিত বার্ষিক সাধারণ সভা আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় শুনানির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল অভিযোগগুলোর ওপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় মন্ত্রণালয়। এরপর নির্দেশক্রমে রিহ্যাবের এজিএম আগামী ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সদস্যদের উদ্দেশে পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রিহ্যাব। সেখানে জানানো হয়, আগামী শনিবার অনুষ্ঠেয় বার্ষিক সাধারণ সভা আপাতত স্থগিত রয়েছে। সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন স্থান, তারিখ ও সময় পরে সদস্যদের অবহিত করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সংগঠনের সদস্যদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এর আগে সহ-সভাপতি-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসের আবেদনের পর অভিযোগগুলোর শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির আগে জারি করা নোটিশে বিরোধপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে রিহ্যাবের সভাপতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়। অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকার কথাও জানানো হয়েছিল।
রিহ্যাবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংগঠনের প্রশাসনিক, আর্থিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে ঘিরে। অভিযোগের তালিকায় পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া তহবিল থেকে দুই কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয় রয়েছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন, এজিএমের স্থান ও তারিখ নির্ধারণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতির বিষয়ও রয়েছে। গোপনীয় তথ্য প্রকাশ, রিহ্যাব সামার ফেয়ার-২০২৬ আয়োজন, ক্রয়সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি বিলুপ্ত এবং সরকারি পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। সভাপতির আচরণ, সদস্য উন্নয়ন কমিটির গঠন, দায়িত্ব অর্পণ এবং পরিচালনা পর্ষদের সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ও অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য