
ইবি রিপোর্ট
বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনা ঘিরে উঠেছে বড় ধরনের অভিযোগ। ওই সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর দায়িত্বে থাকা তিনটি মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট এবং সে সময় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকার সুযোগ।
সাবেক এই উপদেষ্টা একই সময়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়; যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এসব মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেট ছিল ৪৭ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার খাতে ৪৪ হাজার ২৪৩ কোটি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৪২৩ কোটি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ৪৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।
এত বড় অঙ্কের অর্থ থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া কীভাবে সম্ভব—এ প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্টদের দাবি, দেড় বছরের দায়িত্বকালে বিপুল উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় রাজনৈতিক জবাবদিহিতার ঘাটতি অর্থ সরানোর সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন।
অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বাভাবিক রাজনৈতিক নজরদারি ছিল না। একই সময়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কর্মকর্তারাও চাপের মধ্যে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পছন্দের কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে বড় অবকাঠামো, সড়ক নির্মাণ, যুব উন্নয়ন ও শ্রম কল্যাণের বিভিন্ন প্রকল্পকে ঘিরে অর্থ সরানোর অভিযোগও এসেছে। বেনামি দরপত্র ও ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। অর্থ পাচারের ক্ষেত্রেও প্রচলিত হুন্ডির পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের তথ্য অনুসন্ধানে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের অর্থ ও কমিশনের টাকা বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে স্থানান্তরের পর তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে পাসওয়ার্ডভিত্তিক ওয়ালেটে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে বিদেশে অর্থ সরানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ কাজে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে অর্থ ও প্রযুক্তি খাতে প্রভাবশালী কিছু ‘প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ’ সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে অভিযোগের অনুসন্ধানে নথিপত্র জব্দ করছে দুদক। সাবেক উপদেষ্টার দায়িত্বকালের বড় প্রকল্প, দরপত্র, ই-জিপি ফাইল ও বিশেষ বরাদ্দের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থের গতিপথ শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট ইউনিট ডিজিটাল লেনদেন অনুসরণ করছে।
পাঠকের মন্তব্য