
ইবি রিপোর্ট
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কর্মদক্ষতা এখন থেকে নির্দিষ্ট সূচকে মাপবে বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপি ঋণ কমানো ও আদায়, ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, সুশাসন, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকসেবাসহ পাঁচটি ক্ষেত্রে মোট ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন কাঠামো নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্ধারিত লক্ষ্যের অর্ধেকের কম অর্জন হলে সংশ্লিষ্ট সূচকে কোনো নম্বর পাওয়া যাবে না। আবার ছয়টি নির্দিষ্ট সূচকে ব্যর্থ হলে মোট নম্বর থেকেও অতিরিক্ত নম্বর কেটে নেওয়া হবে।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এমডি ও সিইওদের দায়িত্ব ও কর্মমূল্যায়নের জন্য ‘কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটরস (কেপিআই) ফ্রেমওয়ার্ক’ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২-এর জারি করা নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য এটি প্রযোজ্য।
নতুন কাঠামোয় পাঁচটি ক্ষেত্রে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের স্বচ্ছলতা ও তারল্যে ২৫ শতাংশ, সম্পদের মানে ২৫ শতাংশ, সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে ২৫ শতাংশ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, গ্রাহক ও বাজার আচরণে ১৫ শতাংশ এবং মুনাফায় ১০ শতাংশ নম্বর রাখা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু মুনাফা করলেই একজন এমডি বা সিইও ভালো মূল্যায়ন পাবেন না; ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ঋণের মান ও পরিচালন ব্যবস্থাও সমান গুরুত্ব পাবে।
প্রতিটি সূচকের লক্ষ্য নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এ ক্ষেত্রে আগের প্রান্তিকের কর্মদক্ষতা বা তথ্যকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হবে। নির্ধারিত লক্ষ্যের অন্তত ৫০ শতাংশ অর্জন করলে আনুপাতিক হারে নম্বর পাওয়া যাবে। পুরো লক্ষ্য অর্জন করলে সংশ্লিষ্ট সূচকের পূর্ণ নম্বর পাওয়া যাবে।
তবে ছয়টি সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এগুলো হলো অগ্রিম-আমানত অনুপাত, মোট খেলাপি ঋণের হার, নিট খেলাপি ঋণের হার, বড় ঋণ ও শীর্ষ ঋণগ্রহীতার কেন্দ্রীভবন, শ্রেণিকৃত ও অবলোপন করা ঋণ আদায় এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ, কৃষি, সবুজ অর্থায়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সম্প্রসারণ। এসব সূচকের কোনো একটিতে নির্ধারিত লক্ষ্যের ৫০ শতাংশের কম অর্জন হলে বা শূন্য নম্বর পেলে মোট স্কোর থেকে অতিরিক্ত নম্বর কাটা হবে।
নতুন কাঠামো শুধু বার্ষিক কর্মমূল্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এমডি বা সিইওর পারিশ্রমিক, প্রণোদনা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণের পাশাপাশি নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ, মেয়াদ বাড়ানো এবং উত্তরসূরি পরিকল্পনাতেও এই মূল্যায়ন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংক ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই অভিন্ন এই কাঠামো চালু করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের মূল্যায়নে শুধু ব্যবসা বাড়ানোর বদলে ঋণের মান, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনের ফলাফলও এখন আরও সরাসরি বিবেচনায় আসবে।
পাঠকের মন্তব্য