
ইবি রিপোর্ট
২০২৬ সালে বাংলাদেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারী রয়েছেন প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ নাগরিক। তাদের মধ্যে অন্তত অর্ধকোটি টিআইএনধারী প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। বর্তমানে সবাইকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে হচ্ছে। তবে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় অসতর্কতা বা তথ্যের অসামঞ্জস্যের কারণে নানা ধরনের ভুল হয়ে থাকে।
বিশেষ করে আয়, সম্পদ, ব্যয় ও বিনিয়োগের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ভুল তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এসব ভুলের কারণে পরবর্তীতে টিআইএনধারীকে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখেও পড়তে হতে পারে। তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অনেকে বাস্তবে যতটুকু স্বর্ণের মালিক, রিটার্নে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ স্বর্ণ দেখিয়ে থাকেন। এটি পরবর্তীতে আয় ও সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি করতে পারে।
আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য না থাকলে কর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই রিটার্নে স্বর্ণের প্রকৃত পরিমাণই উল্লেখ করা উচিত। বাস্তবে যতটুকু সম্পদ রয়েছে, সেটিই সঠিকভাবে দেখানো নিরাপদ।
রিটার্নে হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণও সঠিকভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে অতিরিক্ত নগদ অর্থ দেখানো হয়।
এ ধরনের তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি নগদ অর্থ দেখানো হলে সেই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই বাস্তবে হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণই রিটার্নে দেখানো উচিত।
পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া মূল্যবান উপহারের তথ্যও রিটার্নে উল্লেখ করা প্রয়োজন। এসব উপহারের মধ্যে জমি, ফ্ল্যাট, স্বর্ণালংকার বা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ থাকতে পারে।
রিটার্নে এ ধরনের উপহার না দেখানো ভুল হতে পারে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব উপহারের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো ধরনের কর দিতে হয় না। তবে সম্পদের হিসাব সঠিক রাখতে রিটার্নে সেগুলোর তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ করা জরুরি।
নগদ অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেন অনেক টিআইএনধারী। এর মধ্যে এফডিআর, ডিপিএস ও সঞ্চয়পত্রের মতো বিনিয়োগ রয়েছে। কিন্তু অনেকেই রিটার্নে এসব বিনিয়োগের তথ্য উল্লেখ করেন না।
এটি বড় ধরনের ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে আয়কর ব্যবস্থার বিভিন্ন তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হওয়ার সুযোগ থাকায় বিনিয়োগের তথ্য গোপন করা সহজ নয়। বরং যথাযথভাবে বিনিয়োগ দেখালে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কর সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে।
রিটার্নে আয় ও ব্যয়ের হিসাবের মধ্যেও সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। অনেক সময় কেউ নিজের স্বাভাবিক আয়ের তুলনায় বেশি ব্যয়ের তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করে ফেলেন।
আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি দেখানো হলে অতিরিক্ত অর্থের উৎস কী—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে। ফলে রিটার্নে আয়, ব্যয় ও সম্পদের হিসাব দেওয়ার সময় পারস্পরিক সামঞ্জস্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
রিটার্নে প্রথমবার যে সম্পদ ও আয়ের উৎস দেখানো হচ্ছে, সেগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব তথ্যের সমর্থনে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্রও সংরক্ষণ করে রাখা উচিত।
রিটার্ন দাখিলের আগে আয়, সম্পদ, বিনিয়োগ, ব্যয় ও নগদ অর্থের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করলে ভুলের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে রিটার্নে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির সামঞ্জস্য থাকলে ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।
পাঠকের মন্তব্য