
ইবি রিপোর্ট
নির্বাচিত হওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় সভাপতির পদ হারালেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর সভাপতি মো. আলী আফজাল হোসেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে তাঁর নাম থাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাঁর সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করেছে।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত পত্র জারি করা হয়। উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদন অনুযায়ী মো. আলী আফজাল হোসেন ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে ঋণখেলাপি হওয়ায় বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ধারা ২৩(১)(খ) অনুযায়ী তাঁর সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হলো।
গত ১৮ এপ্রিল রিহ্যাবের ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন মো. আলী আফজাল হোসেন। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যেই সংগঠনটির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক শুরু হয়।
গত জুলাইয়ে রিহ্যাবের কয়েকজন পরিচালক ও নেতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সভাপতির বিরুদ্ধে সংগঠন পরিচালনা ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য পরে রিহ্যাবের বার্ষিক সাধারণ সভাও স্থগিত করা হয়েছিল।
তবে সর্বশেষ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে অন্য কোনো অভিযোগকে সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের পত্রে স্পষ্টভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রিহ্যাবের সভাপতি নির্বাচনের আগে ও পরে আলী আফজালের ঋণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে তাঁর অবস্থানের বিষয়টি সামনে আসার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইন অনুযায়ী পদ শূন্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পত্রটি রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নিবন্ধক, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। রিহ্যাবের অফিস সচিবকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
তবে সভাপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংগঠনের দায়িত্ব কে নেবেন বা নতুন সভাপতি নির্বাচনে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পত্রে কোনো নির্দেশনা নেই।
দেশের আবাসন খাতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য সংগঠন রিহ্যাবের নেতৃত্বে এ পরিবর্তন এমন সময়ে এলো, যখন সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। নির্বাচনের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণার ঘটনায় এখন সংগঠনটির পরবর্তী নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য