![]()
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় দলটির সমর্থকদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে আসে এবং ২০২৫ সালের ১২ মে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান না থাকায় প্রার্থিতার শর্ত পূরণ করলে ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে।
এ পরিস্থিতিতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগে তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। এহসানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয় এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। অন্যদিকে সারজিস আলম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা এড়ানো প্রয়োজন।
ক্ষমতাসীন বিএনপিও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম বা অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া আইনসম্মত হওয়া উচিত নয়। তার মতে, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং আইনের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় নির্বাচন কমিশনের মূল বিবেচ্য হবে একজন প্রার্থীর আইনগত যোগ্যতা। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম বলেন, কোনো ব্যক্তি আইন অনুযায়ী প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হলে শুধুমাত্র তার রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে তাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার সুযোগ নেই। একইসঙ্গে নির্বাচন বিশ্লেষক মুনিরা খান মনে করেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচন বাস্তবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে না, কারণ অধিকাংশ প্রার্থীই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পরিকল্পনা ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পাঠকের মন্তব্য