![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক মাস ধরে চলা দাবানলের ধোঁয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এতে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রের নানা সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দক্ষিণ আসিয়ান অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের আবহাওয়া ও অগ্নিকাণ্ড পর্যবেক্ষণ সংস্থা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আসিয়ান স্পেশালাইজড মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার (এএসএমসি) জানায়, দক্ষিণ আসিয়ান অঞ্চলে সতর্কতার তৃতীয় স্তর বা ‘অ্যালার্ট লেভেল-৩’ কার্যকর করা হয়েছে। শুক্রবার এ সতর্কতা জারি করা হয়।
সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত এএসএমসি চার স্তরের সতর্কতাব্যবস্থা অনুসরণ করে। শূন্য থেকে তিন পর্যন্ত নির্ধারিত এই স্তরগুলোর মধ্যে তৃতীয় স্তরটি সর্বোচ্চ সতর্কতা নির্দেশ করে। কোনো এলাকায় আন্তসীমান্ত ধোঁয়া মারাত্মক আকার ধারণ করার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হলে এই সতর্কতা জারি করা হয়।
এএসএমসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কয়েকটি পরিস্থিতির ভিত্তিতে এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুনের উৎস শনাক্ত হওয়া, টানা দুই দিন বা তার বেশি সময় ধরে মাঝারি থেকে ঘন ধোঁয়ার উপস্থিতি এবং দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া।
এ ছাড়া বাতাসের প্রবাহের কারণে দাবানলের ধোঁয়া প্রতিবেশী আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও সতর্কতা জারির অন্যতম কারণ। এসব পরিস্থিতি একত্রে আন্তসীমান্ত ধোঁয়াশার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
চলতি বছর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হলো। এর আগে গত ২৬ আগস্ট ও ২৭ মার্চ একই সতর্কতা দিয়েছিল সংস্থাটি। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ধোঁয়াশার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
ধোঁয়ার প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাশাপাশি শ্বাসকষ্টসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে দাবানলের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়াশা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের জন্য দায়ী বলে চিহ্নিত সাতটি কোম্পানিকে সতর্কবার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সিঙ্গাপুর। শুক্রবার দেশটি এ তথ্য জানায়।
তবে দাবানল ও ধোঁয়াশার পরিস্থিতি আরও খারাপ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সিঙ্গাপুর। এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ধোঁয়ার প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দাবানলের বিস্তার, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং বাতাসের মাধ্যমে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে দক্ষিণ আসিয়ান অঞ্চলে সতর্কতা জারি রেখেছে এএসএমসি। চলমান পরিস্থিতিতে ধোঁয়াশার প্রভাব মোকাবিলা এবং জনজীবনের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
পাঠকের মন্তব্য