![]()
ইবি রিপোর্ট
ই-কমার্স খাতের উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং অনলাইন কেনাকাটায় ভোক্তাদের আস্থা অর্জনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী সাকিফ শামীম। স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এই উদ্যোক্তা মনে করেন, দেশের ই-কমার্স খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উদ্যোক্তাদের সমস্যা চিহ্নিত করা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
সাকিফ শামীম ল্যাবএইড গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক। স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্যের অনলাইন বিক্রি, গৃহস্থালি সেবা, আর্থিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগসহ বিভিন্ন খাতে তাঁর ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে।
আরো যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত তিনি
সাকিফ শামীমের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি লাইফপ্লাস বাংলাদেশ লিমিটেড। এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্য কেনার পাশাপাশি চিকিৎসকের সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ, রোগনির্ণয় পরীক্ষা এবং বাসায় স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রাহকেরা অনলাইনে পণ্য নির্বাচন, দাম দেখা ও অর্ডার দেওয়ার সুযোগ পান। একই প্ল্যাটফর্মে পণ্য কেনাকাটা এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ব্যবস্থা থাকায় গ্রাহকেরা এক জায়গা থেকেই একাধিক সেবা নেওয়ার সুযোগ পান।
দৈনন্দিন সেবাকে অনলাইনে সহজলভ্য করার ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ওয়ান ট্যাপের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি মেরামতের মতো সেবা খোঁজা ও বুকিং দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়েও কাজ করছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তাঁর সম্পৃক্ত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ল্যাবএইড এআই ও ভার্চুকেয়ারবিডি ডট এআই। ল্যাবএইড এআইয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আর্থিক প্রযুক্তি ও বিমাসংশ্লিষ্ট উদ্যোগও রয়েছে।
ল্যাবএইড ক্যানসার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ল্যাবএইড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পরিচালক। তাঁর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আলফা ফোর্স, ল্যাবএইড ফিনটেক সলিউশনস, ল্যাবএইড ইনসুরটেক,বেসরকারি গভেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (সিএসইআর), পজিটিভ ভেটেরিনারি ক্লিনিক, প্রাইম শাইন ক্লিনিং সার্ভিস এবং অপরাজয়ী আবাসন। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব
ই-ক্যাবের সভাপতি পদে নির্বাচন করার আগ্রহের বিষয়ে ‘এন্ট্রাপ্রেনার বাংলাদেশ’কে সাকিফ শামীম বলেন, বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ভোক্তাদের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তাঁর মতে, অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার পরিধি বাড়লেও উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ, পণ্য সরবরাহ, অর্থ পরিশোধব্যবস্থা এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোক্তা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে ই-কমার্সে স্বচ্ছতা, মানসম্মত সেবা এবং গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অনলাইন ব্যবসায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পক্ষেও মত দেন তিনি। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের উদ্যোক্তারা যাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও বেশি ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন, সে জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের সুযোগ বাড়লে উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখতে পারবেন।
বাংলাদেশের পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে বিদেশি বাজারে বিক্রির সম্ভাবনা নিয়েও লেখালেখি করেন সাকিফ শামীম। এ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, বিদেশি ক্রেতাদের কাছে দেশীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া এবং অনলাইনভিত্তিক রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি বাড়াতে উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশি বাজারে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। তাঁর মতে, ই-কমার্স খাতের টেকসই বিকাশে উদ্যোক্তাদের সমস্যা চিহ্নিত করা, তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। এ জন্য উদ্যোক্তা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ অনলাইন ব্যবসা ও ই-কমার্স খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন। সংগঠনটির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন আগামী ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করে সাকিফ শামীম বলেন, তিনি ই-কমার্স খাতের বিকাশে কাজ করতে চান। উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধান, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের ই-কমার্স খাতকে আরও গতিশীল করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।