![]()
ইবি রিপোর্ট
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণপ্রস্তাবের বাকি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহ থেকে সংস্থাটির সঙ্গে দুই সপ্তাহ ধরে আলোচনা করবে বাংলাদেশ। ঋণপ্রস্তাবের যেসব বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই এ আলোচনার মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী জানান, ঋণপ্রস্তাবের বিষয়ে নীতিগতভাবে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এখন বাকি বিষয়গুলো কীভাবে চূড়ান্ত করা যায়, তা নিয়ে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদল আলোচনা করবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইন প্রিন্সিপাল (নীতিগতভাবে) সবকিছু ঠিক আছে। এখন বিষয়টা কিভাবে ক্লোজ (চূড়ান্ত) করবো, সেটা নিয়ে দুই টিম বসবো।’
বাংলাদেশের অর্থায়নের বিষয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের ইতিবাচক মনোভাবের কথাও তুলে ধরেন আমির খসরু। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক সংস্থা বাংলাদেশকে অর্থায়নের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এসব সংস্থার সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন সহযোগীরাও এ বিষয়ে একমত। এ সময় তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের বিষয়েও কথা বলেন।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব বাংলাদেশ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। এ কাঠামোর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সহযোগিতার বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
আমির খসরু আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করেছে। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে এই কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে রেখে কাজ করছে সরকার।
আইএমএফের ঋণপ্রস্তাব চূড়ান্ত করার আলোচনা এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের উদ্যোগ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ আগামী বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অর্থায়নের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঋণপ্রস্তাবের বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর পাশাপাশি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা উপলক্ষে অর্থমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত থাইল্যান্ডের ব্যাংককে এ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য