![]()
ইবি রিপোর্ট
সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সাবিনকোর (সৌদি-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড) মূলধন বাড়াতে নতুন করে ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগে সৌদি আরবকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতিও চলছে। দুই দেশের সমান অংশগ্রহণে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির মূলধন পুনর্গঠনে মোট ২০ কোটি ডলার যুক্ত হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধশিল্প ও স্বাস্থ্যসেবাসহ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রস্তাবটি এগিয়ে নিতে অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে দেশটির অর্থমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সৌদি আরব সফরে গেলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত ৫ অক্টোবর পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেন। এর সঙ্গে সৌদি অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর জন্য প্রস্তাবিত চিঠির খসড়া এবং একটি কৌশলগত পরিকল্পনাপত্রও যুক্ত করা হয়। ৭ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নথিগুলো অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের কাছে পাঠায়।
অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন ও স্বাক্ষর পাওয়ার পর চিঠিটি সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-জাদানের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অর্থ বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য নথিগুলো অর্থমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের সমান বিনিয়োগ
১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সরকারের সমান মালিকানায় সাবিনকো প্রতিষ্ঠিত হয়। চার দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন অর্থায়নে কাজ করছে বলে সৌদি অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর জন্য তৈরি খসড়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সাবিনকোতে নতুন করে ১০ কোটি ডলার মূলধন দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সৌদি আরবকেও সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের আহ্বান জানানোর কথা রয়েছে। এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত কৌশলগত পরিকল্পনাপত্রের শিরোনাম ‘মূলধন সম্প্রসারণ, দ্বিপক্ষীয় মূলধন পুনর্গঠন ও যৌথ সার্বভৌম গ্যারান্টি কাঠামো (২০২৬-২০৩০)’। সাবিনকোর সঙ্গে পরামর্শ করে এটি তৈরি করা হয়েছে।
কোন খাতে বাড়বে বিনিয়োগ
প্রস্তাবিত মূলধন বাড়ানো হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হিমাগার ও শীতল সরবরাহব্যবস্থা, ওষুধ এবং ওষুধের সক্রিয় উপাদান (এপিআই), স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক উৎপাদনশিল্পে বিনিয়োগের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছেন সাবিনকোর কর্মকর্তারা।
এ উদ্যোগের আরেকটি লক্ষ্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা এবং আরব উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সহজ শর্তে অতিরিক্ত অর্থায়ন সংগ্রহ করা। দুই সরকারের প্রস্তাবিত মূলধন ব্যবহার করে এ ধরনের অর্থায়ন পাওয়া গেলে বিনিয়োগের পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সৌদি আরবের স্বার্থও বিবেচনায়
প্রস্তাবিত বিনিয়োগে সৌদি আরবের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সুবিধাও তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং শীতল সরবরাহব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়লে সৌদি বাজারে খাদ্য সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এটি দেশটির খাদ্যনিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণেও সহায়ক হতে পারে বলে খসড়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একইভাবে, বাংলাদেশে ওষুধ ও এপিআই উৎপাদন সম্প্রসারিত হলে সৌদি ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য সরবরাহের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশে এবং বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী সৌদি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্থানীয় অর্থায়ন ও যৌথ বিনিয়োগের অংশীদার হিসেবেও সাবিনকো কাজ করতে পারে। প্রস্তাবটির বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলো সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের প্রস্তাবটি এখনো সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক বিবেচনার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন, সৌদি সরকারের সম্মতি এবং পরবর্তী অর্থায়ন কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার ওপর এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের যৌথ বিনিয়োগ সম্পর্ককে নতুন খাতে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য