![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। পরিকল্পিত ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) বা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য চালু করা হচ্ছে সহজীকৃত ‘ওয়ান পেইজ লাইসেন্স’ ব্যবস্থা। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাত্র একটি সহজ লাইসেন্সের মাধ্যমেই বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)-এর সভাপতি আমিরুল হক।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সিসিসিআই কনফারেন্স হলে ইতালীয় টেক্সটাইল প্রযুক্তিবিষয়ক কর্মশালা এবং বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
আমিরুল হক বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার ইতোমধ্যেই নীতিগতভাবে এই লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় সম্মতি দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ীর ফ্রি ট্রেড জোনে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ীর ফ্রি ট্রেড জোনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান পেইজ লাইসেন্স চালুর পরিকল্পনা করছি। সরকার এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই সম্মতি দিয়েছে। এই লাইসেন্স ব্যবহার করেই কোম্পানিগুলো নিবন্ধিত হতে এবং ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে।”
সিসিসিআই সভাপতি জানান, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করা আরও দ্রুত, সহজ এবং বিনিয়োগবান্ধব হবে।
বাংলাদেশ-ইতালি বাণিজ্য সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ইতালিতে বছরে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করছে। আগামী দিনে এই রপ্তানি ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টেক্সটাইল, সিরামিক, মেশিনারি এবং শিল্প প্রযুক্তি খাতে ইতালির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ আগ্রহী। ইতালীয় প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি বিশ্বমানের হওয়ায় এসব খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং ইতালীয় কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
রাষ্ট্রদূত জানান, অ্যাসোসিয়েশন অব ইতালিয়ান টেক্সটাইল মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স-এর অধীনে ১১টি ইতালীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশ সফর করছে।
তিনি বলেন, প্রতিনিধি দলটি তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী সমাধান ও আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন সহযোগিতার সুযোগ খুঁজছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মশালায় দেশের শীর্ষ শিল্পপতি, ইতালীয় মেশিনারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পিএইচপি ফ্যামিলি-র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, ইস্পাহানি গ্রুপ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ইস্পাহানি, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ তানভীর, ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাপারেলস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তৈয়ব এবং বিজিএমইএ-এর সাবেক সহ-সভাপতি এম এ সালাম।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ান পেইজ লাইসেন্স ব্যবস্থা কার্যকর হলে বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে, যা দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।