![]()
২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পেনাল্টি যেন আর্জেন্টিনার জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত নেওয়া দুই পেনাল্টির একটিও জালে জড়াতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অথচ ২০২২ বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকেই করেছিলেন চার গোল, আর টাইব্রেকারসহ সফলভাবে স্পটকিক নিয়েছিলেন ছয়বার। সেই আসরে তার নিখুঁত কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তা ছিল আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের অন্যতম ভিত্তি।
২০২২ বিশ্বকাপে মেসি মূলত দুটি ভিন্ন কৌশলে পেনাল্টি নিতেন। প্রথম কৌশলে ছোট ছোট পদক্ষেপে দৌড় শুরু করে গোলরক্ষকের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করতেন। গোলরক্ষক একদিকে ঝুঁকে পড়লেই বিপরীত কোণে নিখুঁত সাইড-ফুট শটে বল পাঠিয়ে দিতেন। সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের বিপক্ষে এই পদ্ধতিতে সফল হয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় কৌশলে গোলরক্ষকের দিকে না তাকিয়ে বলের ওপর পুরো মনোযোগ রেখে জোরালো ইনস্টেপ শট নিতেন, যার গতি অনেক সময় ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেত। পোল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এই কৌশলেই গোল করেছিলেন।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই প্রথম ও সবচেয়ে সফল কৌশলটি আর ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে না মেসিকে। অস্ট্রিয়া ও মিশরের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই তিনি শক্তিশালী শটের ওপর ভরসা করেছেন। একটি শট বারের ওপর দিয়ে চলে গেছে, অন্যটি গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। ফলে টানা দুই পেনাল্টি মিস করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকা।
বিশ্লেষকদের মতে, মেসির আগের ধীরস্থির ও গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করার কৌশল থেকে সরে আসাই তার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হতে পারে। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার জন্য প্রতিটি সুযোগই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে পরের ম্যাচগুলোতে পেনাল্টি নেওয়ার সময় মেসি তার পুরোনো সফল কৌশলে ফিরবেন কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের বড় কৌতূহল।
পাঠকের মন্তব্য