![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই নয়, অনন্য এক উদযাপনের মাধ্যমেও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে নরওয়ে। ফুটবলের পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, আফ্রিকার শক্তিশালী দল সেনেগাল এবং কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ‘গ্রুপ অব ডেথ’ খ্যাত গ্রুপ ‘আই’ থেকে টানা দুই জয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। আর সেই সাফল্যের পরই বিশ্বজুড়ে নজর কাড়ে তাদের ব্যতিক্রমধর্মী উদযাপন।
মাঠজুড়ে ‘ভাইকিং রো’
সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে নরওয়ের হয়ে জোড়া গোল করেন তারকা স্ট্রাইকার Erling Haaland। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা মাঠের ঘাসে সারিবদ্ধভাবে বসে ও হাঁটু গেড়ে প্রাচীন ভাইকিং লংবোটের আদলে একটি ফরমেশন তৈরি করেন।
এরপর সবাই একসঙ্গে দাঁড় টানার ভঙ্গিতে উদযাপন শুরু করেন। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো সমর্থকও একই ছন্দে অংশ নেন। মুহূর্তেই পুরো স্টেডিয়াম যেন রূপ নেয় বিশাল এক ভাইকিং জাহাজে।
ওডেগার্ডের নেতৃত্বে অনন্য দৃশ্য
এই উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নরওয়ের অধিনায়ক Martin Ødegaard। হাতে ড্রাম ও ড্রামস্টিক নিয়ে তিনি খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের একত্রিত করে পুরো কোরিওগ্রাফি পরিচালনা করেন।
তার ড্রামের তালে তালে হাজারো সমর্থকের অংশগ্রহণ স্টেডিয়ামে সৃষ্টি করে এক অসাধারণ আবহ, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
জাতীয় গর্বের প্রতীক
বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকেই ‘ভাইকিং রো’ নরওয়েজিয়ান সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয় হতে শুরু করে। তবে মূল পর্বে দলের দুর্দান্ত সাফল্যের পর এটি এখন জাতীয় পরিচয়, ঐক্য ও গর্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
নিউইয়র্কের Times Square-এ শত শত সমর্থকের একসঙ্গে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। একইভাবে বোস্টন, অসলোসহ বিভিন্ন শহরেও এই উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে।
কোথা থেকে এলো ‘ভাইকিং রো’?
মজার বিষয় হলো, ‘ভাইকিং রো’-এর জন্ম ফুটবলে নয়। এর শিকড় রয়েছে রক ও হেভি মেটাল সংগীতের জগতে। সেখানে এটি ‘রোয়িং পিট’ নামে পরিচিত।
সুইডেনের জনপ্রিয় ব্যান্ড Amon Amarth এবং সুইজারল্যান্ডের Eluveitie-এর কনসার্টে দর্শকদের প্রায়ই বসে দাঁড় টানার ভঙ্গিতে অংশ নিতে দেখা যায়। ভাইকিং সংস্কৃতি ও নর্স পুরাণভিত্তিক সংগীতের সঙ্গে এই কোরিওগ্রাফি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে।
ইতিহাসের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক
নরওয়ের জন্য ‘ভাইকিং রো’ শুধু বিনোদন নয়, বরং তাদের হাজার বছরের সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতীক। অষ্টম থেকে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ভাইকিংরা সমুদ্রপথে অভিযান, বাণিজ্য ও যুদ্ধের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল।
যুদ্ধ কিংবা দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার সময় বিশাল লংবোটে একযোগে দাঁড় টানতেন ভাইকিং যোদ্ধারা। আধুনিক ‘ভাইকিং রো’ সেই ঐতিহাসিক দৃশ্যের প্রতীকী পুনর্নির্মাণ, যা ঐক্য, শক্তি এবং সম্মিলিত চেতনার বার্তা বহন করে।
বিশ্বকাপের নতুন ফ্যান-কালচার আইকন
২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে Iceland-এর বিখ্যাত ‘ভাইকিং থান্ডার ক্ল্যাপ’ যেমন বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছিল, তেমনি এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’ও দ্রুতই নতুন ফ্যান-কালচার আইকনে পরিণত হয়েছে।
মাঠের সাফল্য, ইতিহাসের গর্ব এবং আধুনিক সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এই উদযাপন এখন নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম পরিচয় হয়ে উঠেছে