![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
লেবানন প্রসঙ্গে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। বেন গাভিরকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, জেরুজালেমের বর্তমান প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক সহায়তা দেওয়া উচিত নয়।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর চার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার পর গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বেন গাভির বলেন, ‘পুরো লেবাননকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে হবে।’ তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, “কোনো বড় রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি মূলত একজন যুদ্ধাপরাধীর ভাষা।”
স্যান্ডার্স আরও বলেন, বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে উৎসাহিত করে এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের পরিপন্থী। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের প্রতি ইসরাইলকে দেওয়া সহায়তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
অবস্থানে অনড় বেন গাভির
সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি বেন গাভির। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমেরিকানদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, ইসরাইলকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিষ্কার করে দিতে হবে যে আমাদের সন্তানদের রক্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়।”
একই পোস্টে তিনি আবারও দাবি করেন, “পুরো লেবাননকে অবশ্যই পুড়তে হবে।”
সংঘাত পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র
এদিকে লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার চলমান সংঘাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর মাধ্যমে সংঘাত পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে।
এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে টানা ১৮ ঘণ্টাব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ হয়েছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
ভয়াবহ মানবিক সংকট
লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ শুরু হওয়া ইসরাইলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত দেশটিতে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ।
এছাড়া চলমান সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি লেবানিজ নাগরিক। মানবিক সংকট ক্রমেই গভীরতর হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য এবং সামরিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতিও এতে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।