![]()
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকের পর ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিদেশে আটকে থাকা দেশটির বাজেয়াপ্ত সম্পদের একটি অংশও মুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের জন্য একটি বৃহৎ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে বাজেয়াপ্ত সম্পদের পরিমাণ কিংবা পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানি প্রতিনিধি দলের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ হোসেইন গোরবানজাদেহ বলেছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার একটি খসড়া চুক্তি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। আরাগচি আরও জানান, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় লেবানন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, লেবাননকে ঘিরে একটি সংঘাত-নিরসন সমন্বয়কেন্দ্র গঠন হতে যাচ্ছে, যা হবে এই প্রক্রিয়ার প্রথম বড় পরীক্ষা। মধ্যস্থতাকারী দেশ দুটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই উদ্যোগে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তান ও কাতার এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদ্য সমাপ্ত আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনা প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক তদারকি বজায় রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্মত হয়েছে। প্রধান আলোচকরা নিয়মিত এই কমিটিকে অগ্রগতির প্রতিবেদন দেবেন। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং সমঝোতা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ রূপরেখা নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সপ্তাহজুড়ে সুইজারল্যান্ডে বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে। এছাড়া লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় একটি সংঘাত-নিরসন সমন্বয়কেন্দ্র গঠনের বিষয়েও সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
জানা গেছে, বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে ছিলেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। বৈঠক চলাকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইরানকে কঠোর হুমকি দেন। প্রকাশ্যে সেই হুমকি প্রত্যাখ্যান করলেও ইরানি কর্মকর্তারা বৈঠকের সময় বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের প্রথম অনুচ্ছেদের পরিপন্থী, যেখানে আলোচনা চলাকালে একে অপরকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি না দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে।
যদিও কিছু প্রতিবেদনে ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক বর্জনের কথা বলা হয়েছিল, মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র এবং এক মার্কিন কূটনীতিক জানিয়েছেন, বাস্তবে এমন কিছু ঘটেনি। বরং দিনভর আলোচনা অব্যাহত ছিল। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ছিল সবচেয়ে উত্তপ্ত। পাশাপাশি পারমাণবিক চুক্তির বিভিন্ন বিষয় এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। একজন মার্কিন কূটনীতিক জানান, হরমুজ প্রণালি অবাধ ও উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং এ ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তার ভাষ্য, আলোচনার গতি ও পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরা সন্তুষ্ট এবং এই আলোচনা ভবিষ্যতে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।
পাঠকের মন্তব্য