ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না। বরং সেই অর্থ দেশের মানুষের কল্যাণ, উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় হাজারো নারী-পুরুষ, চা শ্রমিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকেই নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে। তারা প্রশ্ন তোলে—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড কিংবা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অর্থ কোথা থেকে আসবে? আমি জনগণকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই, বিগত এক যুগ ধরে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। আমরা আর জনগণের টাকা বিদেশে যেতে দেব না।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের অর্থ জনগণের জন্য ব্যয় করা হবে। রাষ্ট্রের সম্পদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ করা হবে। সুতরাং দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে অর্থের কোনো ঘাটতি হবে না, ইনশাআল্লাহ।”
অর্থ পাচার রোধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যারা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে কিংবা এখনো পাচারের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। তবে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, এ ক্ষেত্রে জনগণেরও সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন। সবাই যদি চোখ-কান খোলা রাখে, তাহলে দেশের অর্থ আর বিদেশে পাচার করা সম্ভব হবে না।”
দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন রয়েছে কি না জানতে চাইলে উপস্থিত হাজারো মানুষ সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে সাড়া দেন। এতে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবাই মিলে পরিশ্রম করব, দেশের সম্পদ রক্ষা করব এবং সেই সম্পদ দিয়েই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব। উন্নয়ন হবে জনগণের জন্য, রাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে মানুষের কল্যাণকে কেন্দ্র করে।”
অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নিম্ন আয়ের পরিবার, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য আরও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি ও সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থ পাচার রোধ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের বিষয়টি বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।