![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
কালেমাখচিত সৌদি পতাকার প্রতি বিশেষ সম্মান, বিশ্বকাপে ফিফার ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তে প্রশংসার ঝড়
ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু ক্রীড়ার সর্বোচ্চ আসরই নয়, এটি বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জাতীয় পরিচয়েরও এক বিশাল প্রদর্শনী। এবারের বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জাতীয় পতাকাকে ঘিরে ফিফার একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব এবং ইরাকের জাতীয় পতাকায় ইসলামের পবিত্র শব্দাবলি সংযুক্ত রয়েছে। সৌদি আরবের পতাকায় রয়েছে কালেমা তাইয়্যিবা, আর ইরাকের পতাকায় আরবি ভাষায় লেখা রয়েছে ‘আল্লাহু আকবার’।
এবারের টুর্নামেন্টে সৌদি আরব ইতোমধ্যে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছে। উরুগুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি মাঠে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের একটি বিষয় বিশেষভাবে দর্শকদের নজর কাড়ে।
সাধারণত আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় অংশগ্রহণকারী দুই দেশের জাতীয় পতাকা মাঠের সমতলে নিচের দিকে নামিয়ে প্রদর্শন করা হয়। কিন্তু সৌদি আরব ও উরুগুয়ের ম্যাচে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সৌদি আরবের পতাকাটি মাটির কাছাকাছি নামানো হয়নি; বরং পুরো সময় উঁচু অবস্থায় রাখা হয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সৌদি আরবের জাতীয় পতাকায় ইসলামের পবিত্র কালেমা সংযুক্ত থাকায় এর প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ বা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতে উরুগুয়ের পতাকাটিও সমানভাবে ওপরে রাখা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ফিফার এই পদক্ষেপকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
সৌদি আরবের জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী, কালেমাখচিত জাতীয় পতাকাকে কখনো মাটিতে ফেলা, নিচে রাখা বা অসম্মানজনকভাবে ব্যবহার করা যায় না। দেশটির নাগরিকদের কাছেও পতাকাটি শুধু জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক নয়, বরং ধর্মীয় মর্যাদারও অংশ।
জানা গেছে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রটোকল অনুসরণ করে।
ফলে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক ফুটবলপ্রেমী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। অনেকে মনে করছেন, ক্রীড়াঙ্গনে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেও সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা নিয়ে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন প্রমাণ করেছে, খেলাধুলার মঞ্চ শুধু প্রতিযোগিতার নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও মূল্যবোধেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।