
ইবি রিপোর্ট
ব্যাংক-কোম্পানির মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শেয়ারধারক কোম্পানির বিনিয়োগ এবং তাদের প্রতিনিধি পরিচালকদের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন কোনো কোম্পানি তার নিট সম্পদের চেয়ে বেশি মূল্যমানের শেয়ার কোনো একক বা একাধিক ব্যাংক-কোম্পানিতে ধারণ করতে পারবে না।
নির্ধারিত সীমার বেশি শেয়ার থাকলে সার্কুলার জারির তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে তা সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করেছে। দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, শেয়ারধারক কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগ কমানো, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির পক্ষে মনোনীত প্রতিনিধি পরিচালকদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এ নির্দেশনার উদ্দেশ্য।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি তার নিট সম্পদের পরিমাণের বেশি মূল্যমানের শেয়ার কোনো ব্যাংক-কোম্পানিতে রাখতে পারবে না। এখানে শেয়ারের মূল্য বলতে ক্রয়মূল্যকে বিবেচনা করা হবে। একই কোম্পানি একাধিক ব্যাংক-কোম্পানির শেয়ার ধারণ করলেও সব মিলিয়ে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা যাবে না। ইতিমধ্যে কোনো কোম্পানির শেয়ারধারণ এ সীমা ছাড়িয়ে থাকলে ছয় মাসের মধ্যে তা নির্ধারিত সীমায় আনতে হবে।
শেয়ারধারক কোম্পানির পক্ষে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে মনোনীত ‘প্রতিনিধি পরিচালক’ নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ওই শেয়ারধারক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অথবা পরিচালক হতে হবে। পাশাপাশি তাকে নিজের নামে সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ দায়মুক্ত মালিকানা রাখতে হবে।
তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে মনোনীত ব্যক্তির নিজের নামে ওই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২ শতাংশ দায়মুক্ত মালিকানা থাকতে হবে। অন্য কোম্পানির ক্ষেত্রে এ মালিকানার পরিমাণ হতে হবে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২০ শতাংশ। প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পুরো সময় এই মালিকানা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। অনুমোদনের জন্য আবেদন করার সময় মনোনীত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানিতে মালিকানা বা স্বত্ব থাকার প্রমাণক দলিলও বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।
সার্কুলার জারির আগে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ পাওয়া প্রতিনিধি পরিচালকদের পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এসব নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের পর্ষদ সভায় সার্কুলারের বিষয়গুলো উপস্থাপন করতে হবে এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা ও শেয়ারধারকদেরও এ বিষয়ে অবহিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। ফলে শেয়ারধারক কোম্পানির ব্যাংক বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদে তাদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও মালিকানা ও অনুমোদনের শর্ত নির্ধারিত হলো।
পাঠকের মন্তব্য