
ইবি রিপোর্ট
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়তা প্রাক্-অর্থায়ন তহবিল’–এর নীতিমালা সংশোধন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় অর্থায়নের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের জন্য ছয় মাসের ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আজ এক সার্কুলারের মাধ্যমে সংশোধিত নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে সংশ্লিষ্ট আগের সার্কুলারগুলোর বিভিন্ন জায়গায় ‘বৃহৎ শিল্প’ শব্দের পরিবর্তে শুধু ‘শিল্প’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শ্রেণির বড় শিল্পের বদলে শিল্প খাতের আরও বিস্তৃত প্রতিষ্ঠান এ ব্যবস্থার আওতায় অর্থায়নের সুযোগ পাবে।
সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, এ তহবিলের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাক্-অর্থায়ন নেওয়া ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে প্রাক্-অর্থায়ন পাওয়ার পর প্রথম ছয় মাস এ সুদ পরিশোধ করতে হবে না। ছয় মাস পর থেকে সুদ পরিশোধ শুরু হবে এবং প্রথম দুই প্রান্তিকের বকেয়া সুদও তখন পরিশোধ করতে হবে।
গ্রাহক পর্যায়েও সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণ বিতরণের পর গ্রাহকদের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রেও ছয় মাসের ছাড় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ঋণ পাওয়ার ছয় মাস পর সুদ আদায় শুরু হবে এবং প্রথম দুই প্রান্তিকের বকেয়া সুদও এর সঙ্গে পরিশোধ করতে হবে।
নীতিমালায় ব্যাংকগুলোর অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রেও নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ছয় মাসের ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক্-অর্থায়নের অর্থ ব্যাংকগুলোকে প্রতি প্রান্তিকে ফেরত দিতে হবে।
এ ছাড়া তিন বছর মেয়াদি এ তহবিলের পুরো সময়জুড়ে, তহবিলে অর্থ থাকা সাপেক্ষে যেকোনো সময় প্রাক্-অর্থায়নের জন্য আবেদন করা যাবে। ফলে নির্দিষ্ট একটি সময়সীমার মধ্যে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা থাকছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে সংশোধিত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সার্কুলার জারির সঙ্গে সঙ্গেই নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে অর্থায়নের সুযোগ বিস্তৃত করার পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের শুরুতে কিছুটা সময় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলো।
পাঠকের মন্তব্য