![]()
\ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সরকার প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে দেশের কোনো গ্রাম যেন প্রাথমিক বিদ্যালয়বিহীন না থাকে, সে লক্ষ্যে গ্রামভিত্তিক ম্যাপিং কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। রাজধানীর একটি কর্মশালায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষাখাতকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে পৌঁছে দিতে পারলে শিক্ষার্থীদের রাজধানীমুখী চাপ কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে উঠবে।
প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এজন্য কোথায় বিদ্যালয়ের প্রয়োজন রয়েছে তা চিহ্নিত করতে বিস্তারিত ম্যাপিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষা গ্রহণ করছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। স্কুল ইউনিফর্ম প্রকল্প, মিড-ডে মিল কর্মসূচি এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কারণ দক্ষ কর্মশক্তি তৈরি ছাড়া বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পখাতের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয় জোরদারে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে গ্রাম পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পেলে শিক্ষার বৈষম্য কমবে এবং জাতীয় উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
পাঠকের মন্তব্য