![]()
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শুধু একটি জাদুঘর নয়, বরং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, রাজনৈতিক ইতিহাস এবং জিয়াউর রহমান–এর জীবন ও আদর্শের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাদুঘরটিতে সংরক্ষিত রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মারক—যার মধ্যে রয়েছে তাঁর হাতে লেখা নোট, সামরিক পোশাক, রাজনৈতিক দলিল, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের প্রতিরূপ, মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্র এবং ১৯৮১ সালে নিহত হওয়ার সময়কার বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন।
১৯১৩ সালে নির্মিত এই ভবনটি প্রথমে সার্কিট হাউস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী এটিকে নির্যাতনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। পরে ১৯৮১ সালের ৩০ মে এখানেই নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে ভবনটিকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১৯৯৩ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন খালেদা জিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে জাদুঘরটির ভবন ও সংরক্ষিত নিদর্শনের অবস্থা উদ্বেগজনক। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কাঠের সিঁড়ি ও জানালার ক্ষয় দেখা দিয়েছে, অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শনে মরিচা ধরেছে এবং কিছু অংশে ফাটলও তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ভবনটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তবে সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার সংস্কার প্রকল্পের আওতায় ভবনের দেয়াল, বাগান, আলোকসজ্জা ও অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘হেরিটেজ সাইট’ ঘোষণার পরিকল্পনাও করছে।
জাদুঘরটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি এটি নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ, রাষ্ট্রচিন্তা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য