![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করতে চান না তিনি। বরং আলোচনাকে আরও সময় নিয়ে সঠিকভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধিদের।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “আলোচনা এগিয়ে চলছে এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পেশাদার ও গঠনমূলক হয়েছে।” তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “উভয় পক্ষকেই পর্যাপ্ত সময় নিতে হবে এবং বিষয়টি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এখানে কোনো ভুল করা চলবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ মন্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য সমঝোতার গতি কিছুটা ধীর করে দিতে পারে। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছিল।
ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালি-এ ইরানি জাহাজের ওপর মার্কিন অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি শান্তি সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে “মোটামুটি আলোচনা” সম্পন্ন করেছে। তবে সেটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা নাকি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু জটিল ইস্যুতে মতবিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের তেলের রাজস্ব ফেরত এবং হিজবুল্লাহ-কে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পাঠকের মন্তব্য