![]()
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত নিরসনে একটি বড় ধরনের সমঝোতা চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় “মোটামুটি চূড়ান্ত” একটি কাঠামোগত সমঝোতা তৈরি হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, চুক্তিটি এখন শুধু আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানসহ কয়েকটি দেশ অংশ নেবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা কমবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্বস্তি আসবে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি এখনো ইরানের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং অবাধ যাতায়াতের আগের অবস্থায় ফেরার দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যদিও তারা স্বীকার করেছে, জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতায় প্রথম ধাপে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির কাঠামো থাকতে পারে, যেখানে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক করা এবং কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিনিময়ে ইরান তেল রপ্তানির সুযোগ পেতে পারে এবং কিছু বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা সম্পদ ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
আলোচনায় আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে, যা ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য থাকতে পারে। তবে এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে চুক্তি ঘিরে আশাবাদ ও সন্দেহ—দুই ধরনের অবস্থানই বিদ্যমান। যদিও উভয় পক্ষই আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি।
পাঠকের মন্তব্য