![]()
চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি শিশু চিকিৎসা নিয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৫১২ জনে পৌঁছেছে—এমন উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্র। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, হাম ও রাতকানাসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ আইইউ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেনা হচ্ছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা। UNICEF–এর সহায়তায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ২ লাখ আইইউ এবং ১ লাখ আইইউ ডোজের ক্যাপসুল দ্রুত দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জরুরি ভিত্তিতে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা যায়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পর থেকে নিয়মিত সাপ্লাই চেইন বাধাগ্রস্ত থাকায় নতুন ভিটামিন এ ক্যাপসুল কেনা হয়নি, ফলে একটি ঘাটতি তৈরি হয়। এই ঘাটতি পূরণে নতুন চালান আসার পর জাতীয় পর্যায়ে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন আবার শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি ও হাম আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। শরীরে ভিটামিন এ কম থাকলে হাম বেশি মারাত্মক হয়ে ওঠে এবং নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতা বেড়ে যায়। শিশু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে হামে মৃত্যুঝুঁকি ১০ থেকে ১৫ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলছেন, শুধু টিকাদান নয়, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। তাদের মতে, আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি, দ্রুত ডেথ অডিট, ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শনাক্তকরণ এবং ভ্রাম্যমাণ টিকাদান কর্মসূচি জরুরি ভিত্তিতে জোরদার করা দরকার।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, ঈদের সময় মানুষের চলাচল বাড়লে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন জোরদার করাকে তারা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
পাঠকের মন্তব্য