![]()
ঢাকা-র বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। মাছ, মাংস ও ডিমের পর এবার বাড়তে শুরু করেছে সবজির দামও। এর সঙ্গে চাল, ভোজ্যতেল ও মসলার মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে।
রাজধানীর নিউমার্কেট, লালবাগ, হাতিরপুল এবং কাওরান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বিক্রেতাদের ভাষ্য, টানা বৃষ্টি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
মাংস ও ডিমের বাজারে পাকিস্তানি কক মুরগি প্রতি কেজি ৩৭০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা, বাদামি মিক্স ডিম ১৪০ টাকা এবং বড় বাদামি ডিম ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে কাতল মাছ ৩৬০ টাকা, রুই ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০ টাকা, কই ২২০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারেও বেশিরভাগ পণ্যের দাম ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। কাঁকরোল ও গোল বেগুন ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ও দেশি শসা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটল ও করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ১০০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম উঠেছে ১৬০ টাকায়।
চালের বাজারেও স্বস্তি নেই। মাঝারি চাল ৬০ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক মাসে মাঝারি চালের দাম প্রায় ৪ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরকার নির্ধারিত দাম লিটারপ্রতি ১৯৯ টাকা হলেও খুচরা বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন বিক্রেতারা।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে মসলার বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এলাচের দাম বেড়ে কেজিতে ৪৬০০ টাকা, লবঙ্গ ১৪৫০ টাকা, আলুবোখারা ১৫০০ টাকা, কিশমিশ ৮৩০ থেকে ৮৫০ টাকা, জিরা ৬৫০ টাকা এবং দারুচিনি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৪৫ টাকায় উঠেছে।
বাদামের বাজারেও দাম বেড়েছে। পেস্তা বাদাম ৪২০০ টাকা এবং কাজুবাদাম ১৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও প্রতিনিয়ত সংসারের খরচ বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি খরচ বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ছে।
পাঠকের মন্তব্য