![]()
দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী City Group বর্তমানে তীব্র আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে এবং এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় Bangladesh Bank-এর কাছে নীতিসহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা গ্রুপটি দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা কখনো ঋণ খেলাপি হয়নি। তবে গত চার বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের বিপরীতে টাকার বড় অবমূল্যায়ন, সুদের হার বৃদ্ধি, এলসি জটিলতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপ তাদের নগদ প্রবাহ ও ঋণ পরিশোধ সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে সিটি গ্রুপ জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের ২৪টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৩৪টি ব্যাংক ও পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ সম্পর্ক রয়েছে। গ্রুপটির দাবি, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীলতার সঙ্গে তাদের কার্যক্রম সরাসরি জড়িত। ‘তীর’, ‘সান’ ও ‘ন্যাচারাল’ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে তারা দেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোজ্যতেল, ৪০ শতাংশ চিনি এবং ২৫ শতাংশ আটা সরবরাহ করে থাকে। বছরে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকার টার্নওভার করা এ শিল্পগোষ্ঠী সরাসরি প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এবং দেশজুড়ে হাজারো সরবরাহকারী, পরিবেশক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান বলেন, ডলারের বিনিময় হার গত কয়েক বছরে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় আমদানিনির্ভর ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের সুদহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি জানান, মুন্সিগঞ্জের হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে ছয়টি বড় শিল্পকারখানা নির্মাণ করা হলেও এখনো সেখানে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে কারখানাগুলো উৎপাদনে যেতে পারছে না এবং বিনিয়োগের বিপরীতে আয় না থাকায় ঋণের চাপ আরও বেড়েছে।
চিঠিতে সিটি গ্রুপ উল্লেখ করেছে, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে তাদের আমদানি সক্ষমতা কার্যত ৪২ শতাংশ কমে গেছে। একই টাকার ঋণসীমায় এখন আগের তুলনায় অনেক কম কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের উচ্চমূল্য এবং এলসি নিশ্চিতকরণ ব্যয় বৃদ্ধি ব্যবসায়িক ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটের কারণে এলসি খোলা এবং নতুন অর্থায়ন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানিয়েছে গ্রুপটি।
এ পরিস্থিতিতে সিটি গ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণীকরণ স্থগিত রাখা, অতিরিক্ত কার্যকর মূলধন সহায়তা, শূন্য মার্জিনে এলসি সুবিধা, সুদের হার কমানো, জরিমানা সুদ মওকুফ এবং পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধাসহ সাত ধরনের নীতিসহায়তা চেয়েছে। পাশাপাশি গ্রুপটি জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে কিছু নন-কোর ব্যবসা বিক্রি, নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজা, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা যাচাই এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে। সঠিক নীতিসহায়তা পেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তারা আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে শিল্পগোষ্ঠীটি।
পাঠকের মন্তব্য