![]()
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে অভিনেতা ‘থালাপতি’ জোসেফ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কালাঘাম (টিভিকে)। সর্বশেষ ট্রেন্ড অনুযায়ী, প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই দলটি ১২০টির বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। মোট ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন, ফলে প্রাথমিক এই অবস্থান টিভিকে-কে রাজ্যের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। এই অগ্রগতির ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসা ডিএমকে ও এআইএডিএমকে অনেকটাই চাপের মুখে পড়েছে, এবং তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলছে।
তামিলনাড়ুর রাজনীতি ঐতিহ্যগতভাবে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে এই দুই দ্রাবিড় দলের আধিপত্যে সীমাবদ্ধ ছিল। গত কয়েক দশকে এই দুই দলের বাইরে কোনো দলই স্থায়ীভাবে বড় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। তবে অভিনেতা বিজয়ের নেতৃত্বে গঠিত টিভিকে ২০২৪ সালে রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকেই একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে থাকে। প্রাথমিক ফলাফলের এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাজ্যের দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, ডিএমকে নেতৃত্বাধীন এম কে স্ট্যালিনের সরকার এই প্রাথমিক ট্রেন্ডে পিছিয়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দলটির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এআইএডিএমকে-ও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারছে না বলে বিভিন্ন ট্রেন্ডে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রবণতা চূড়ান্ত ফলাফলেও প্রতিফলিত হয়, তাহলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটতে পারে।
এদিকে কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর এগিয়ে যাওয়ার খবরও দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, দক্ষিণ ভারতের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান এবং পুরনো শক্তির অবস্থান পরিবর্তনের একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
পাঠকের মন্তব্য