![]()
দেশের রাস্তায় নীরবে কিন্তু দ্রুতগতিতে এক বড় পরিবর্তন ঘটছে—ইলেকট্রিক বাইক (ই-বাইক) ও ই-স্কুটার এখন নতুন সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, যানজট, পরিবেশ সচেতনতা এবং কম খরচে চলাচলের সুবিধার কারণে এই খাতটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বর্তমানে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ নিয়ে বাজারটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলছে।
মাত্র কয়েক বছর আগেও যেখানে এই বাজার ছিল প্রায় অপ্রাসঙ্গিক, সেখানে এখন দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী যেমন Walton, PRAN-RFL Group, Runner Automobiles, Akij Group এবং Nasir Group বড় বিনিয়োগ নিয়ে এই খাতে প্রবেশ করেছে। এতে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
চাহিদা বৃদ্ধির চিত্রও স্পষ্ট। তিন বছর আগে যেখানে মাসে মাত্র ১০০ ইউনিট ই-বাইক বিক্রি হতো, এখন তা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আমদানিও কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অনানুষ্ঠানিক আমদানি যোগ করলে প্রকৃত বাজারের আকার আরও বড়।
এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ খরচ সাশ্রয়। যেখানে পেট্রোলচালিত বাইকে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয় ২-৪ টাকা, সেখানে ই-বাইকে তা নেমে আসে মাত্র ৩০-৪০ পয়সায়। এছাড়া ইঞ্জিন অয়েল বা নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের ঝামেলা না থাকায় ব্যবহারকারীদের জন্য এটি আরও সুবিধাজনক হয়ে উঠছে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। নাসির গ্রুপ ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতে তা ৫০০ কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন শুরু করেছে। ওয়ালটনও স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করেছে এবং নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে।
একইসঙ্গে পুরোনো মোটরসাইকেল নির্মাতা রানার অটোমোবাইলস ও নতুন প্রতিযোগী আকিজ গ্রুপও বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি চীন থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডও বাজারে শক্ত প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দেশে চার্জিং অবকাঠামো এখনও খুব সীমিত—মাত্র শতাধিক পাবলিক চার্জিং স্টেশন রয়েছে, যার বেশিরভাগই বড় শহরকেন্দ্রিক। এছাড়া নিবন্ধন প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় অনেক ব্যবহারকারী অনিবন্ধিত যান ব্যবহার করছেন।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি চার্জিং অবকাঠামো উন্নত করা যায়, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা হয় এবং নীতিগত সহায়তা বাড়ানো হয়, তাহলে ই-বাইক শিল্প খুব দ্রুত দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও সহজ ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় এটি ভবিষ্যতে শহুরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য