![]()
চলতি সপ্তাহে শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান-এর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে চীনের অবস্থান তুলনামূলক সংযত—তারা সরাসরি কোনো পক্ষের নাম না নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে সমর্থন করছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একই সময়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন, যা দুই পরাশক্তির অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন এই পরিস্থিতিতে নিজেকে একটি ‘দায়িত্বশীল শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়। সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে তারা অপেক্ষা, পর্যবেক্ষণ এবং কৌশলগত অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে।
চীনের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের ‘অহস্তক্ষেপ’ নীতি এবং একসঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল। উদাহরণস্বরূপ, চীন যেমন ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, তেমনি গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (GCC)-ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের প্রধান অগ্রাধিকার এখনো অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা। কারণ তাদের আমদানিকৃত তেলের বড় অংশ এই অঞ্চল থেকেই আসে। তাই যুদ্ধের চেয়ে স্থিতিশীলতা চীনের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে বেইজিং কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়িয়েছে—চীনের শীর্ষ কূটনীতিকদের একাধিক ফোনালাপ ও বৈঠক এরই অংশ। তবে তারা সরাসরি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে খুব বেশি আগ্রহী নয়, বরং ‘পর্দার আড়াল’ থেকে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।
সব মিলিয়ে, চীন বর্তমান সংকটে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে, যেখানে তারা ইরান, উপসাগরীয় দেশ এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেই নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য