![]()
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। মূলত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের কঠোর অবস্থানই আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং লেবানন ইস্যু—এই পাঁচটি বিষয়ই বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কোনো পক্ষই বড় ধরনের ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় পরবর্তী বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তান-এর ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত বা বন্ধ করতে, অন্যদিকে ইরান তুলনামূলক স্বল্প সময়ের জন্য সীমিত স্থগিতাদেশে আগ্রহী। প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টিও বড় বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরান নৌ চলাচলে কড়াকড়ির অবস্থান নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান এই ইস্যুকে সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যুদ্ধক্ষতিপূরণ হিসেবে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদানের দাবি তুলেছে ইরান। তবে এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো ইতিবাচক অবস্থান নেয়নি।
লেবানন ইস্যুতে আবারও জড়িয়েছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক জটিলতা, যেখানে ইরান দাবি করছে, এই বিষয়টি চুক্তির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির চেয়ে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোই আপাতত বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে, কারণ দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে।
পাঠকের মন্তব্য