![]()
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো বড় সংকট নেই; বরং ‘প্যানিক বায়িং’ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুতের কারণেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি)-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। এসময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পের সরবরাহ তথ্য তুলে ধরেন, যেখানে দেখা যায়—গত বছরের পুরো মাসের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলের মাত্র ১৯ দিনেই প্রায় সমপরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ডিজেল ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন, অকটেন ২৭ হাজার ৬০২ মেট্রিক টন, পেট্রোল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪ মেট্রিক টন এবং জেট ফুয়েল ২১ হাজার ৩৮২ মেট্রিক টন মজুত রয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর অধীন কোম্পানিগুলোকে জ্বালানি বিক্রি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ডিজেল ও পেট্রোল ১০% এবং অকটেন ২০% বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে।
অবৈধ মজুত ঠেকাতে পরিচালিত অভিযানে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৩টি মোবাইল কোর্ট চালানো হয়েছে। এতে ৪৭টি মামলায় মোট ১ কোটি ৭২ লাখ টাকার বেশি জরিমানা এবং ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানে মোট ৫ লাখ ৬২ হাজার ৮২১ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়।
জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে ‘ফুয়েল পাস বিডি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার পাইলট কার্যক্রম এখন ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রসারিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অ্যাপটিতে নিবন্ধন সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। আপাতত ঢাকার ১৮টি নির্ধারিত পাম্প থেকে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল চালকরা এ সুবিধা পাচ্ছেন।
গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ভোক্তা ও পরিবহন মালিক উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে এবং ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব যাতে দ্রব্যমূল্যে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।
এছাড়া ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার চালু হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সরকার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্বাস্থ্যখাতে টিকাদান কর্মসূচি এবং মালয়েশিয়া-এর শ্রমবাজার পুনরায় চালুসহ বিভিন্ন খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান উপদেষ্টা।
পাঠকের মন্তব্য