
ইবি রিপোর্ট
২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন বর্ধিত করার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন বর্ধিত করার আবেদন করেন তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ দেন।
আদালতের কার্যক্রম শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তানজিন তিশা। এ সময় তিনি বলেন, অনেকের মনে হতে পারে, তিনি আবার আদালতে কেন এসেছেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি আইনের প্রতি বিশ্বাস করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি আদালতে এসেছেন এবং প্রয়োজন হলে আরও কয়েকবার আদালতে আসতেও প্রস্তুত।
মামলার বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিশা বলেন, মামলাটি তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বাদী তাঁর স্বামীর ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁকে হয়রানি করছেন। এ ঘটনায় একটি ‘সিন্ডিকেট’ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তানজিন তিশা জানান, ঘটনাটি ‘সোলজার’ সিনেমার শুটিং শুরুর দুই দিন পরের। শুটিং চলাকালীনই ঘটনাটি ঘটে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রতারণার অভিযোগ আনার আগে তাঁকে বিষয়টি জানানো যেত। তবে বর্তমানে কে বা কারা কেন কী করছে, তা জানার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ নেই। তিনি আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মামলার নথি ও বাদীপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, অনলাইনভিত্তিক ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। শাড়িটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন—এমন অভিযোগ আনা হয় মামলায়।
এ ঘটনায় ফ্যাশন পেজটির প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন।
মামলার পর আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
পরে ডিবি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। আদালত গত ১২ জুলাই ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। একই সঙ্গে ১৩ আগস্ট তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তানজিন তিশা। পরে মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করে আসছেন তানজিন তিশা। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন, ওই শাড়িটি তাঁকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে মামলাটি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তানজিন তিশা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি চান।
পাঠকের মন্তব্য