
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টেসলার সাবেক কর্মকর্তাদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাটমিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নতুন বিনিয়োগ পেয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য মজুতের পরিমাণ, কোথায় কত পণ্য রাখা হবে এবং কখন নতুন করে পণ্য কেনা দরকার—এসব সিদ্ধান্ত নিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। নতুন বিনিয়োগের পর অ্যাটমিকের মোট সংগৃহীত অর্থ ১৫ মিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের ২৯ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনভিত্তিক অ্যাটমিকের নতুন বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিয়েছে ক্লাস ক্যাপিটাল ও ম্যাড্রোনা ভেঞ্চার গ্রুপ।
অ্যাটমিকের প্রযুক্তির শুরু হয়েছিল টেসলার একটি উৎপাদনসংক্রান্ত সংকট থেকে। ২০১৮ সালে টেসলার মডেল ৩ গাড়ির উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর সময় প্রচলিত হিসাবের ছক দিয়ে উৎপাদন পরিকল্পনার দ্রুত পরিবর্তন সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে অ্যাটমিকের প্রতিষ্ঠাতারা সরবরাহব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নেওয়ার একটি ব্যবস্থা তৈরি করেন।
অ্যাটমিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল রসিটার বলেন, একটি সরবরাহব্যবস্থা পরিচালনার সময় একই সঙ্গে অসংখ্য সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পরিস্থিতিও নিয়মিত বদলায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসব সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের পথ বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত পথ খুঁজে দিতে পারে।
অ্যাটমিকের প্রযুক্তি এখন ডোরড্যাশ ও হ্যালোফ্রেশের মতো প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অ্যাটমিকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও টেসলার সাবেক কর্মকর্তা জন ম্যাকনিলের দাবি, ডোরড্যাশ শত শত স্থানে তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য কেনার কাজ অ্যাটমিকের মাধ্যমে পরিচালনা করছে। তবে এই দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে মজুত ব্যবস্থাপনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কিনলে তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আবার কম পণ্য থাকলে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। অ্যাটমিকের প্রযুক্তি এ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে পণ্য কেনা ও মজুতের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করছে।
প্রতিষ্ঠানটি শুধু খাদ্য খাতেই কাজ করছে না। অ্যাটমিকের প্রধান নির্বাহী জানান, ভোগ্যপণ্য, পরিবহন ও উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও তারা কাজ করছে। ভিন্ন ভিন্ন খাতের সরবরাহব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাটমিকের আর্থিক অগ্রগতির কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জন ম্যাকনিলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক পুনরাবৃত্ত আয় পাঁচ গুণ হয়েছে। তবে এ তথ্য তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অ্যাটমিকের নিজস্ব আর্থিক নথি প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি টেসলার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক জেফ গুডরিচকে প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ও তৃতীয় সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অ্যাটমিক।
অ্যাটমিকের প্রযুক্তির আরেকটি দিক হলো কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা লিখিতভাবে সংরক্ষণ না করলেও তাদের নিয়মিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি শনাক্ত করা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পণ্য কর্মকর্তা নিল সুইডানের নেতৃত্বে এ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে বলে ম্যাকনিল জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিয়মিত যে সিদ্ধান্তগুলো নেন, সেগুলোর কিছু অংশ পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
অ্যাটমিকের লক্ষ্য হলো সরবরাহব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাকে প্রচলিত হিসাবের ছকনির্ভর পদ্ধতি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়া। এতে পণ্য কেনা, মজুত রাখা এবং সরবরাহের পরিকল্পনা তৈরিতে মানুষের সময় কম লাগবে বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা মনে করছেন।
টেসলার অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি এই প্রযুক্তি এখন অন্যান্য শিল্পেও ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি বড় প্রতিষ্ঠানে এর ব্যবহার বাড়ায় সরবরাহব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬; প্রতিবেদন—শন ও’কেন।
পাঠকের মন্তব্য